মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ বলেছেন, চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত নয়। এর মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেইসব প্রযুক্তি-নির্বাহীদের দলে যোগ দিলেন, যারা বিধিনিষেধের পরিবর্তে উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার পক্ষে প্রকাশ্যে মত দিয়েছেন।
মঙ্গলবার ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে জাকারবার্গ বলেন, চীনা এআই মডেলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করাটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থান ধরে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় নয়। বরং তিনি যুক্তি দেন যে, অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা এবং উদ্ভাবনের গতি ত্বরান্বিত করার মাধ্যমেই দেশটির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা উচিত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাকারবার্গ এমন সব নীতির বিষয়েও সতর্ক করেছেন যা ‘ওপেন এআই মডেল’ বা উন্মুক্ত এআই মডেলের প্রাপ্যতা সীমিত করতে পারে। তিনি বলেন, বিদেশি মডেলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের চেয়ে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি আরও ভালোভাবে সাধিত হবে।
ওয়াশিংটন যখন এআই-সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে এবং চীনা এআই নির্মাতাদের বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক চলছে, ঠিক তখনই জাকারবার্গের এই মন্তব্য সামনে এলো।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিখাতের শীর্ষস্থানীয় নির্বাহীদের মধ্যে কেবল তিনিই নন, বরং আরও অনেকেই এমন মতামত প্রকাশ করেছেন।
এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেনসেন হুয়াং গত সপ্তাহে অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর চীনা এআই মডেল ব্যবহারের সুযোগ ’নিঃসন্দেহে’ থাকা উচিত। তিনি যুক্তি দেন যে, ওপেন মডেলগুলো উদ্ভাবন, সাইবার নিরাপত্তা এবং এআই-এর ব্যাপক প্রসারে সহায়তা করে। হুয়াংয়ের মতে, বিধিনিষেধের ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে প্রতিযোগিতার মনোভাব কোম্পানিগুলোকে আরও উন্নত প্রযুক্তি তৈরিতে উৎসাহিত করা উচিত।
টেসলা এবং এক্সএআই’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্কও একাধিকবার চীনের এআই সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে চীনা কোম্পানিগুলো সম্ভবত বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিযোগী হয়ে উঠবে। মাস্ক ওপেন-সোর্স এআই উন্নয়নের প্রতি সমর্থন জানানোর পাশাপাশি উন্নত এআই সিস্টেমের ক্ষেত্রে যথাযথ সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান।
সূত্র: সিএমজি বাংলা 




















