প্রাচীনের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার ক্যাফে সংস্কৃতি, এক অনন্য গন্তব্য লাসা - Mati News
Friday, June 12

প্রাচীনের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার ক্যাফে সংস্কৃতি, এক অনন্য গন্তব্য লাসা

সাকিব সিকান্দার

হিমালয়ের উচ্চভূমিতে অবস্থিত দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিচাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের রাজধানী লাসা। এই শহরটি অনেকটা নীরবেই দেশের অন্যতম কফি-পানকারী শহরে পরিণত হয়েছে। যা এই প্রাচীন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটিকে নতুন এক বাণিজ্য গন্তব্য হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বর্তমানে ১০ লাখেরও কম জনসংখ্যার এই শহরে ৮০০টির বেশি কফি শপ রয়েছে। অর্থাৎ, প্রায় ১ হাজার ২০০ জন বাসিন্দার জন্য একটি করে ক্যাফে রয়েছে।

তবে এটি কেবল পাশ্চাত্য কফি সংস্কৃতির অনুকরণ নয়। লাসার পুরনো শহরের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থপথ বারখোর স্ট্রিটের কফিশপগুলোতে অনেক বারিস্তা কাজ করেন। তারা শতাব্দীপ্রাচীন ইয়াকের পনির এসপ্রেসোর সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করছেন— যা শহরটির আধ্যাত্মিক কেন্দ্র থেকে আধুনিক আঞ্চলিক কেন্দ্রে রূপান্তরের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় জনপ্রিয় ক্যাফে সেনসিয়া কফির মালিক বলেন, ‘আমাদের এখানে দারুণ সিচাং-ধাঁচের পরিবেশ রয়েছে। লাসায় অনেক ক্যাফে আছে, কিন্তু আমরা আলাদা। স্থানীয় মানুষ, এমনকি ৮০ বছর বয়সীরাও এখানে আমেরিকানো পান করতে আসেন। এছাড়া বিদেশিসহ অনেক পর্যটক শুধু আমাদের দেখতে আসেন।’

তিনি জানান, নতুনত্ব আনা এবং প্রতিটি কাপে সিচাংয়ের সংস্কৃতিকে তুলে ধরার এই প্রচেষ্টাই তাদের ক্যাফেটিকে গ্রাহকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছে।

চীনের পূর্বাঞ্চলীয় থিয়ানচিন পৌরসভার এক পর্যটক বলেন, ‘আমি বছরে একবার এখানে আসি। এবার নিয়ে চতুর্থবার এলাম। স্বাদ কখনো বদলায় না, কিন্তু তারা সবসময় নতুন কোনো বিশেষ পানীয় নিয়ে আসে। আর তা সবসময়ই দারুণ হয়!’

একজন জার্মান পর্যটকের কণ্ঠেও একই প্রশংসা। তিনি বলেন, ‘এটি অনন্য, আমার খুব ভালো লেগেছে। কফিটা দারুণ এবং জায়গাটিও খুব সুন্দর। এখানকার প্রাঙ্গণ ও পরিবেশ জার্মানির থেকে একেবারেই আলাদা।’

২০২৫ সালে লাসার জিডিপি ১০০ বিলিয়ন ইউয়ান অতিক্রম করেছে। এতে উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ছোট পরিসর, দ্রুত চালু করা যায় এবং সহজে ব্র্যান্ড গড়ে তোলা সম্ভব হওয়ায় কফি ব্যবসাকে তারা এক সম্ভাবনাময় বাণিজ্য খাত হিসেবে দেখছেন।

তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যেও যারা নিজেদের শহর ও সংস্কৃতির প্রতি অনুগত থাকেন, তারাই সফল হন বলে মনে করেন সেনসিয়া কফির মালিক।

তিনি বলেন, ‘এখানে প্রচুর উদ্যোক্তা রয়েছেন। স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণরা ফিরে এসে ব্যবসা শুরু করছেন। আবার চীনের অভ্যন্তরীণ অঞ্চল থেকেও অনেকে এখানে এসে একই কাজ করছেন। ফলে প্রতিযোগিতা সত্যিই তীব্র। এত ক্যাফের মধ্যে টিকে থাকতে পেরে আমরা নিজেদের ভাগ্যবান মনে করি, আর আমাদের নিজস্ব স্বতন্ত্র পরিবেশ তো আছেই।’

সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

404 Not Found

404 Not Found


nginx