ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের জেরে চার ভারতীয় কোম্পানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা - Mati News
Wednesday, August 26

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের জেরে চার ভারতীয় কোম্পানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা এবং দেশটি থেকে জ্বালানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য আমদানির অভিযোগে ভারতের চারটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—পোর্টিস পার্টনার এলএলপি, সদাশিব ওভারসিজ লিমিটেড, পিআর সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্রাক্রুতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, উল্লিখিত কোম্পানিগুলো ইরান থেকে তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানি, মজুত, স্থানান্তর এবং বিক্রির প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত ছিল। এছাড়া ইরানকে তেল রপ্তানিতে সহায়তা করার ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা রয়েছে বলে ওয়াশিংটন অভিযোগ করেছে। এই পদক্ষেপটি মূলত ইরানের জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল খাত থেকে অর্জিত রাজস্ব প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করার একটি কৌশলগত অংশ।

এর আগে গত ১৯ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ইরানকে চুক্তিতে আনার জন্য তার প্রশাসন অনেক ছাড় দিলেও দেশটি তাতে সাড়া দেয়নি। ফলে এখন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে এই কঠোর অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করা হয়েছে, যা ইরানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করবে।

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, কোনো দেশ যদি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্য কেন্দ্র, বিমানবন্দর বা সরকারি কাঠামোর মাধ্যমে ইরানকে সহায়তা করে, তবে তাদেরও ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তেল চোরাচালান, পণ্য বিনিময়, মুদ্রা স্থানান্তর, জাহাজ নিবন্ধন এবং ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে ইরানকে সহযোগিতা করার সব পথ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কাস্টমস ব্রোকার প্রতিষ্ঠান পোর্টিস পার্টনার্স ভারতে বিপুল পরিমাণ ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য সরবরাহে ভূমিকা রেখেছে। এই প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ইদ্রিসমিয়া আশরাফমিয়া শেখ ও হরিশ রামচন্দ্র রাঙ্গির ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া সদাশিব ওভারসিজ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ইরানি তেলজাত পণ্য আমদানি করেছে।

একই সময়ে পিআর সফটটেক প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য আমদানি করেছে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক প্রশান্ত গর্গও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন। এছাড়া প্রাক্রুতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ইরানি পণ্য আমদানি করেছে বলে মার্কিন নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বা কোনো মার্কিন নাগরিকের নিয়ন্ত্রণে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। পাশাপাশি, এসব কোম্পানির সঙ্গে যে কোনো ধরনের লেনদেন করা মার্কিন নাগরিকদের জন্য নীতিগতভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের এই নীতি অনুযায়ী, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি ইরানের সামরিক বাহিনী ও জ্বালানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভারতের চার কোম্পানির বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপকে এই নীতিরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর ফলে ইরান আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে অভূতপূর্ব মাত্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *