গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরে আলোচনার সম্ভাবনা - Mati News
Wednesday, September 9

গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরে আলোচনার সম্ভাবনা

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি নবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এরই মধ্যে আলোচনা শুরু করেছেন। বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য একটি ওয়ার্কিং গ্রুপও গঠন করা হয়েছে। এই গ্রুপ তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর চুক্তি নবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে ঢাকা। ধারণা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকালে এই বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে এবং তখনই চুক্তি নবায়নের বিষয়ে সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৯৯৬ সালের সেই ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া।

ফারাক্কা বাঁধ ও পানি ব্যবস্থাপনা

এই চুক্তির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো ফারাক্কা বাঁধে গঙ্গার পানিবণ্টন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কায় গঙ্গা নদীর উপর ১৯৭৫ সালে এই বাঁধ নির্মাণ করা হয়। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে, যার মধ্যে গঙ্গার পানি প্রবাহ ঋতুভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। চুক্তিটির মেয়াদ ৩০ বছর হলেও প্রতি পাঁচ বছর পর পর এটি পর্যালোচনা করার বিধান রয়েছে। এছাড়া চুক্তির প্রভাব মূল্যায়নের জন্য যে কোনো পক্ষ দুই বছর পর পর্যালোচনার দাবি জানাতে পারে।

পানি বণ্টনের নিয়মাবলী

  • প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে পয়লা জানুয়ারি থেকে ৩১শে মে পর্যন্ত প্রতি দশদিন অন্তর পানি বণ্টন করা হয়।
  • ফারাক্কায় পানির প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেকের কম হলে বাংলাদেশ ও ভারত সমান অনুপাতে পানি পাবে।
  • পানির প্রবাহ ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কিউসেক হলে বাংলাদেশ পাবে নির্দিষ্ট ৩৫ হাজার কিউসেক এবং ভারত পাবে অবশিষ্ট পানি।
  • পানির প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি হলে ভারত রাখবে ৪০ হাজার কিউসেক এবং বাকি পানি পাবে বাংলাদেশ।
  • পানির প্রবাহ যদি ৫০ হাজার কিউসেকের নিচে নেমে যায়, তবে দুই দেশের মধ্যে জরুরি বৈঠকের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ফারাক্কা ফিডার ক্যানেলে পানির প্রবাহ এবং হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নেভিগেশন লক-এ পানির প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে একটি যৌথ কমিটি। এই কমিটি নিয়মিতভাবে দু’দেশের সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়, যা পানি বণ্টনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে চুক্তি নবায়ন দুই দেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *