নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা: নিখোঁজ শতাধিক পর্যটকসহ বহু মানুষ - Mati News
Thursday, August 27

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা: নিখোঁজ শতাধিক পর্যটকসহ বহু মানুষ

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বুধবার ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ি মাটি ও পাথরের বিশাল স্তূপ নদীতে ধসে পড়ার ফলে সৃষ্ট এই বিপর্যয়ে নেপাল অংশে অন্তত ৩১ জনের প্রাণহানি হয়েছে। নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই অঞ্চল থেকে ৩৮৪ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয়, ৯৩ জন নেপালি, ১২ জন বৃটিশ, তিনজন মার্কিন নাগরিক এবং আটজন দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকলেও হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, ওই এলাকায় ৪.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের প্রভাবে তুষারধস বা পাহাড়ধস থেকে বন্যার সূত্রপাত হতে পারে। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজে দেখা ঘটনার প্রায় সাত মিনিট আগে ওই এলাকায় ভূমিকম্পটি রেকর্ড করা হয়। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের বিশেষজ্ঞ কিয়াংগং ঝাংয়ের মতে, লেন্দে খোলা নদীতে বরফ ও পাথরের ধস এই বিপর্যয়ের মূল কারণ হতে পারে। তবে নদীর উজানে এখনো বড় ধরনের বাধা আটকে থাকায় দ্বিতীয় দফায় আরও বড় বন্যার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া ও সিসিটিভির তথ্যমতে, ভূমিধসটি নেপালের দিক থেকে শুরু হয়ে সীমান্তের গিরং বন্দরে আঘাত হানে। এতে তিব্বতের শিগাতসে অঞ্চলের যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গিরং এলাকায় অন্তত ৫৭৪ জন উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে, যারা দেড় মিটার গভীর কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে কাজ করছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিব্বতের কর্মকর্তারা গিরং এলাকায় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন।

নেপালের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা দেশটির মোট ৩.২ গিগাওয়াট জলবিদ্যুৎ সক্ষমতার ১২ শতাংশেরও বেশি। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যুক্ত হয়েছে এবং নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসুয়া জেলার শ্যাপ্রু বেসি ও তিমুরে হেলিকপ্টার নামতে না পারায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নদীর তীরবর্তী বসতিগুলো পুরোপুরি ভেসে গেছে এবং অনেক ধাতব সেতু ধ্বংস হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি নেপালকে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত এবং উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট দলগুলো ত্রাণ কার্যক্রমে সমন্বয় করছে। এছাড়া নেপালের সীমান্তবর্তী ভারতের উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তিব্বত থেকে উৎপত্তি হওয়া ভোতে কোশি নদী নেপালের ত্রিশূলী হয়ে ভারতে গান্ডাক নামে প্রবাহিত হয়েছে। গত বছরও একই নদীতে বন্যায় ৯ জন নিহত ও ২৪ জন নিখোঁজ হয়েছিলেন, যা দুই দেশের বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভারতীয় মিডিয়া জানিয়েছে নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে কমপক্ষে ১০৫ জন ভারতীয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি আছেন কিনা তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যাচাই করা ভিডিওতে সীমান্ত এলাকায় বহু মানুষকে পানির স্রোতে ভেসে যেতে দেখা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হিমালয় থেকে নেমে আসা কয়েকটি নদী এসব রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চীন-নেপাল সীমান্তের চীনা অংশে থাকা নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, বিশাল পাথর, কাদা ও পানির স্রোত ধেয়ে আসার আগে মানুষজন দ্রুত পালানোর চেষ্টা করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর ওই স্রোত ভবন ও যানবাহন ভাসিয়ে নিয়ে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভূমিধসের সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *