নেপালের সম্মানসূচক জেনারেল উপাধি পেলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান ধীরাজ শেঠ - Mati News
Tuesday, September 8

নেপালের সম্মানসূচক জেনারেল উপাধি পেলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান ধীরাজ শেঠ

ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ বর্তমানে তিন দিনের এক সরকারি সফরে নেপালে অবস্থান করছেন। ১৭ আগস্ট শুরু হওয়া এই সফর ১৯ আগস্ট পর্যন্ত চলমান থাকবে। নেপালি সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেলের আমন্ত্রণে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে গিয়েছেন। সফরের প্রথম দিকে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান নেপালি সেনাবাহিনীর ভাইস চিফ অব আর্মি স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল প্রদীপ জং কে.সি.। এরপর তিনি নেপালে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সফরের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তটি ছিল সোমবার, যখন নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল ভারতীয় সেনাপ্রধানকে নেপালি সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদায় ভূষিত করেন। এই বিশেষ সম্মাননা প্রদানের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের অনন্য ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই জেনারেল শেঠকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ১৯৫০ সাল থেকে চলে আসা এই প্রথা ভারত ও নেপালের সামরিক সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক আস্থার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

কাঠমান্ডুতে অবস্থানকালে জেনারেল ধীরাজ শেঠ দেশটির সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি টুন্ডিখেলের আর্মি প্যাভিলিয়নে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা আরও সুসংহত করা। নেপালি সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেলের সঙ্গে জেনারেল শেঠের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। এই আলোচনায় পারস্পরিক কৌশলগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং সামরিক প্রশিক্ষণ ও বিনিময় কর্মসূচির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নেপালি সেনাবাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনসের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং নেওয়ার কথা রয়েছে ভারতীয় সেনাপ্রধানের। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত ও নেপালের মধ্যকার সম্পর্ক কেবল সামরিক নয়, বরং গভীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনে আবদ্ধ। এই সম্পর্ককে প্রায়ই ‘রোটি-বেটি কা রিশতা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়, যা দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান নিবিড় মেলবন্ধনের বহিঃপ্রকাশ। সামরিক পর্যায়ে নিয়মিত এই যোগাযোগ দুই দেশের বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *