রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার শেরমস্ত গ্রামের বাসিন্দা মাইদুল ইসলাম (৩৮) এখন স্থানীয় কৃষকদের কাছে ‘কেঁচো মাইদুল’ নামে পরিচিত। একসময় রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও, ২০২৩ সালে নিজের তিন একর আমন ধানের খেতে বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন তিনি। ধানগাছ লালচে হয়ে যাওয়ার কারণ জানতে গিয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামের পরামর্শে তিনি বুঝতে পারেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। এই উপলব্ধি থেকেই তিনি কেঁচো সার বা ভার্মিকম্পোস্ট তৈরির দিকে ঝুঁকে পড়েন।
কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ নিয়ে বাড়ির উঠানে টিনের চালার নিচে ২০টি সিমেন্টের রিং বসিয়ে শুরু হয় তাঁর যাত্রা। নিজের গরুর খামারের গোবর ও প্রশিক্ষণলব্ধ কেঁচো ব্যবহার করে তিনি সার উৎপাদন শুরু করেন। বর্তমানে মাইদুল প্রতি মাসে সাত থেকে আট টন কেঁচো সার উৎপাদন করছেন। সব খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি সার উৎপাদনে তাঁর গড়ে ৬ টাকা খরচ হয়, যা তিনি ১৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। সার তৈরি হতে সময় লাগে ৩০ থেকে ৩৫ দিন। সব মিলিয়ে কেঁচো সার বিক্রি করে তাঁর মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় হয়।
মাইদুলের সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে শেরমস্ত ও আশপাশের গ্রামের অনেক কৃষক এখন কেঁচো সার তৈরির কৌশল শিখছেন। ফাজিলপুর গ্রামের কৃষক মজিবুর রহমান (৪২) ২০২৪ সালে মাইদুলের কাছ থেকে কেঁচো সংগ্রহ করে সার তৈরি শুরু করেন। আগে রাসায়নিক সার কিনতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়া মজিবুর এখন নিজের উৎপাদিত জৈব সার ব্যবহার করে বছরে প্রায় ২০ হাজার টাকা সাশ্রয় করছেন। তাঁর মতে, কেঁচো সার তাঁর ভাগ্য বদলে দিয়েছে এবং তিনি গ্রামকে রাসায়নিক সারমুক্ত করার স্বপ্ন দেখছেন।
একইভাবে পাতিলভাঙ্গা গ্রামের রশিদা বেগম (৩৬) দেড় বছর ধরে কেঁচো সার তৈরি করছেন। স্বামী হারানোর পর সংসারের হাল ধরতে হিমশিম খাওয়া রশিদা এখন নিজের জমির পাশাপাশি কেঁচো ও সার বিক্রি করে বছরে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বাড়তি আয় করছেন। দর্জিপাড়া গ্রামের কৃষক একরামুল হক (৩৯) জানান, এক একর জমিতে সবজি চাষে কেঁচো সার ব্যবহারের ফলে রাসায়নিক সারের প্রয়োজনীয়তা কমেছে এবং ফসলে পোকামাকড়ের আক্রমণও হ্রাস পেয়েছে।
তারাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীবা রানী রায় জানান, কেঁচো সার মাটির পানি ধারণক্ষমতা বাড়ায় এবং মাটির গঠন উন্নত করতে সহায়তা করে। কৃষি বিভাগ কৃষকদের এই জৈব সার তৈরিতে উৎসাহিত করছে। মাইদুল ইসলামের মতো উদ্যোক্তারা এখন শুধু নিজেরা লাভবান হচ্ছেন না, বরং টেকসই কৃষির প্রসারেও ভূমিকা রাখছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শেরমস্ত গ্রামে মাইদুল ইসলামের (৩৮) বাড়ি খুঁজতে খুব একটা বেগ পেতে হয় না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁর নাম বললে অনেকে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘কোন মাইদুল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই নামের পেছনে আছে বদলে যাওয়া এক কৃষিজীবনের গল্প। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিজের জমিতে ব্যবহার করে ভালো ফলন পাওয়ার পর বাড়তে থাকে তাঁর আগ্রহ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখন সেটিই হয়ে উঠেছে তাঁর আয়ের অন্যতম উৎস। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মাইদুলের বাবা জয়নাল আবেদীন ছিলেন এলাকার বড় কৃষক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কৃষিকাজই ছিল পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস।


















