মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা: রেলমন্ত্রী - Mati News
Tuesday, September 15

মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা: রেলমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’ পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। তিনি বলেন, দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ আরও জোরদার করতে ট্রেনটি পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

রেলমন্ত্রী জানান, ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের রেল যোগাযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-কলকাতা রুটে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার মাধ্যমে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে ট্রেনটি ঠিক কবে থেকে আবার চলাচল শুরু করবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

রেলমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেল যোগাযোগ ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের নাগরিকদের যাতায়াতের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, চিকিৎসা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে এই রেলসেবা বড় ভূমিকা রাখে। মৈত্রী ট্রেন চালু হলে সরাসরি যাতায়াত সহজ হবে এবং সড়ক ও আকাশপথের পাশাপাশি রেলপথে যাতায়াতের সুযোগ বাড়লে যাত্রীদের সময় ও ব্যয় উভয়ই সাশ্রয় হবে।

ভবিষ্যতে রেলপথে সহযোগিতার পরিধি বাড়ানোর বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী বলেন, যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং আন্তঃদেশীয় রেল ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, কারণ যোগাযোগ যত বাড়বে, দুই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পারস্পরিক সম্পর্ক তত বেশি শক্তিশালী হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী বলেন, মৈত্রী ট্রেন চালুর বিষয়ে আলোচনা ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত ও প্রস্তুতি বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগ কেবল যাত্রী পরিবহনের মাধ্যম নয়, বরং এটি দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। তাই যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই সরকার ট্রেনটি পুনরায় চালু করতে আগ্রহী।

উল্লেখ্য, ঢাকা-কলকাতা রুটে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস দুই দেশের মধ্যে আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ সময় ধরে এই ট্রেনের মাধ্যমে দুই দেশের নাগরিকরা যাতায়াত করে আসছিলেন। তবে বিভিন্ন কারণে গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ট্রেনটির চলাচল বন্ধ রয়েছে। হাইকমিশনারের সঙ্গে আজকের বৈঠকে রেল যোগাযোগের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ খাতে আরও সহযোগিতার নতুন সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান রেলমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *