পেঁয়াজসহ কৃষিপণ্য আমদানিনির্ভরতা কমাতে বিশেষ উদ্যোগ: কৃষিমন্ত্রী - Mati News
Wednesday, August 19

পেঁয়াজসহ কৃষিপণ্য আমদানিনির্ভরতা কমাতে বিশেষ উদ্যোগ: কৃষিমন্ত্রী

কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও অগ্রগতি অত্যন্ত সন্তোষজনক। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশ পর্যায়ক্রমে কৃষিপণ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে আসার পথে রয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সার সংকটের বিষয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, দেশে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই; বরং চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সার মজুত রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার সারের মজুত পরিস্থিতি অনেক ভালো। যারা সারের কৃত্রিম সংকটের কথা বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তা একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ বলে তিনি মন্তব্য করেন। কৃষিখাতের উন্নয়ন ও সরকারের বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, প্রতি মাসে সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ কৃষকের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হবে। ইতোমধ্যে পাইলট পর্যায়ে প্রায় ১৪ লাখ কৃষকের ডাটাবেজ প্রস্তুত করা হয়েছে, যা কৃষকদের সরকারি সুবিধা প্রাপ্তি সহজ করবে।

বৃক্ষরোপণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের তথ্য জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসে ২৫ লাখ গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ২৪ লাখ ১৮ হাজারের বেশি চারা রোপণ করা সম্ভব হয়েছে। একই সময়ে ৪৭৮ দশমিক ৯ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪৭৫ দশমিক ৬১ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে, যা সেচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বড় ভূমিকা রাখবে।

পেঁয়াজ উৎপাদন ও সংরক্ষণের বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। আগে সংরক্ষণের অভাবে প্রচুর পেঁয়াজ পচে নষ্ট হতো, কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তির কল্যাণে ছয় মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। আগামীতে ৩ লাখ টন পেঁয়াজ সংরক্ষণের অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরি করা হবে। এছাড়া পাট বীজ, পেঁয়াজ বীজ ও আদার ক্ষেত্রেও আমদানিনির্ভরতা থেকে পর্যায়ক্রমে বের হয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী জানান, আগামী বছর থেকে ‘ব্রি ১১৮’ নামের নতুন একটি ধানের জাতের চাষ শুরু হবে। এ জাতটি হাওড় অঞ্চলে প্রচলিত সময়ের ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই রোপণ করা সম্ভব হবে। ফলে আগাম বন্যার হাত থেকে ফসল রক্ষায় এই জাতটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার ভবিষ্যতে কোনো কৃষিপণ্য যেন বাইরে থেকে আমদানি করতে না হয়, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের সেচ খরচ একটি বড় চিন্তার বিষয়। সেচের জন্য ব্যবহৃত দেশের সব পাম্প সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ইতোমধ্যে ৬০ থেকে ৬২ হাজার পাম্প সৌরবিদ্যুতে পরিচালনার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় কৃষি সচিব মো. সেলিম খান উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *