কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে কিশোরগঞ্জে এক বিশাল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বাদ জোহর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শহীদি মসজিদ চত্বরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। কাদিয়ানিবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংগঠনের কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতি মাওলানা শাব্বির আহমাদ রশীদের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী। তিনি বলেন, ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের ওপর আঘাতকারীদের এ দেশে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদে স্পিকারের আসনের ওপরে কালেমা খচিত ক্যালিগ্রাফি ব্যবহার করে সরকার নিজেদের ইসলামবান্ধব হিসেবে প্রমাণ করেছে, যা প্রশংসনীয়। সরকার যদি সত্যিই ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়, তবে তারা কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করে তৌহিদি জনতার দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়ন করবে। বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাংলাদেশেও এটি এখন সময়ের দাবি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের বিশ্বাসের সমালোচনা করে বলেন, তারা নিজেদের মুসলিম পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করছে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে জাতীয় সংসদে বিল পাস করে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করুন এবং তৌহিদি জনতার ক্ষোভের অবসান ঘটান।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা শাব্বির আহমাদ রশীদ বলেন, খতমে নবুওয়তের আকিদা রক্ষায় কিশোরগঞ্জের তৌহিদি জনতা সবসময় আপসহীন। ইমানের স্বার্থে প্রয়োজনে রক্ত দিতে প্রস্তুত থাকলেও খতমে নবুওয়তের পবিত্রতায় কোনো আঘাত সহ্য করা হবে না। কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা না করা পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।
মুফতি আব্দুর রহিমের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা শফিকুর রহমান জালালাবাদী, মাওলানা ইমদাদুল্লাহ, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী, পীর মাওলানা শাহ ইসমাঈল, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি বশির উল্লাহ, মুফতি কেফায়েতুল্লাহ আজহারী, মাওলানা মুহিবুল্লাহ, মাওলানা মুহাম্মদ, মাওলানা আবুল বাশার, মাওলানা উবায়দুল্লাহ আনোয়ার, মাওলানা সাঈদ আহমাদ, মুফতি সুলতান আহমদ জাফরী ও মুফতি মাহমুদ হাসান কাসেমী।




















