গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়: অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী - Mati News
Monday, August 24

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়: অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে দুই বছর সময় প্রয়োজন। শুক্রবার গুলশানের নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রাজস্ব আদায়, বিনিয়োগ এবং সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেন।

অর্থনৈতিক সূচক ও রিজার্ভের বর্তমান অবস্থা

  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ছিল ৩৪ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন ডলার, যা ১৩ আগস্ট বেড়ে ৩৭ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।
  • লেনদেনের ভারসাম্য: ২৬ জানুয়ারি ২ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত ছিল, যা ২৬ জুলাই ৬ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
  • নীতি সুদহার: ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে আইন-কানুন পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলমান। শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে কমিশন পুনর্গঠন করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জুলাই মাসে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবে এটি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তিনি জানান, প্রায় ২ লাখ কোটি টাকার ঘাটতি মোকাবিলা এবং আর্থিক খাতের সংস্কারে সরকার বদ্ধপরিকর।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পরিকল্পনা

  • কর্মসংস্থান প্যাকেজ: ৬৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।
  • ব্যাংক খাতের নিয়োগ: এই খাতে ১২ থেকে ১৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
  • পাচার হওয়া অর্থ: ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তা উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলমান।

মন্ত্রী জানান, আর্থিক খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিলুপ্ত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এছাড়া সোনালী ব্যাংকসহ রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগের প্রবণতা বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া ১৭ বছরের জঞ্জাল সাফ করে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সময় লাগছে।

নতুন বেতনকাঠামো ও উন্নয়ন বাজেট

সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান রাজস্ব পরিস্থিতির কারণে একসঙ্গে পুরো বেতন বৃদ্ধি করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে হিসাব-নিকাশ চলছে। তিনি আরও জানান, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে সরকার কাজ করছে। আইএমএফের ঋণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো শর্ত মেনে নেওয়া হবে না। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই সরকার আগের কর্মসূচি থেকে সরে এসেছে।

সংস্কার ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ

অর্থবছর জুলাই-জুন থেকে পরিবর্তন করে এপ্রিল-মার্চ করার পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজতর হবে। বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োগের বিষয়ে তিনি জানান, আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোতে যথাযথ নিরীক্ষা করা হবে। বাজারদর, আয় এবং কর্মসংস্থান—এই তিন সূচকের মাধ্যমে সরকারের সাফল্য মূল্যায়ন করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পরিশেষে, মন্ত্রী জানান যে ভঙ্গুর অবস্থা থেকে স্থিতিশীলতা এবং সেখান থেকে সমৃদ্ধির পথে যেতে তিনি দুই থেকে চার বছরের সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন। আমানতকারীদের সুরক্ষা দেওয়া সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে অন্যতম বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি ফখরুল ইসলাম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থবছর জুলাইয়ে যখন শুরু হয়, তখন থাকে বর্ষাকাল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা দেখেছি যে প্রস্তুতি নেওয়া হয় শুষ্ক মৌসুমে, কাজ শুরু হয় বর্ষাকালে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থাৎ প্রস্তুতি নিতে নিতেই ভালো একটা সময় চলে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রকল্প বাস্তবায়নটা অনেক সহজ হয়ে যাবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এত দিন তো কাজ শুরু হতো পানির মধ্যে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে একদিকে অপচয় হতো, অন্যদিকে হতো দুর্নীতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *