গ্যাস সংকটে স্থবির দেশের ৬৬০ বস্ত্রকল: সুতা উৎপাদন নেমেছে ৩০ শতাংশে - Mati News
Saturday, August 29

গ্যাস সংকটে স্থবির দেশের ৬৬০ বস্ত্রকল: সুতা উৎপাদন নেমেছে ৩০ শতাংশে

জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া তীব্র গ্যাস সংকটে দেশের বস্ত্রশিল্প খাত ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৬৬০টি বস্ত্রকল এই সংকটে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর বাইরে ২০১৯ সাল থেকে আরও ২৪৪টি বস্ত্রকল বন্ধ রয়েছে। দেশে বর্তমানে ১ হাজার ৮০০টির বেশি টেক্সটাইল মিল রয়েছে, যার মধ্যে ৫২৭টি স্পিনিং মিল বা সুতার কল। হবিগঞ্জ ও চট্টগ্রামের কিছু কারখানায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুরের মোশাররফ কম্পোজিট টেক্সটাইলের উদাহরণটি পরিস্থিতি স্পষ্ট করে। স্বাভাবিক সময়ে দিনে ১৭০ টন সুতা উৎপাদন করা এই কারখানাটি গত এক মাসের বেশি সময় ধরে সক্ষমতার মাত্র ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, গত দুই দিন গ্যাসের চাপ ৩-৪ পিএসআই পর্যন্ত পাওয়া গেলেও উৎপাদন সেভাবে বাড়েনি। গত এক মাসে উৎপাদন ঘাটতির কারণে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা, যা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।

গ্যাস সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নারায়ণগঞ্জের কারখানাগুলোতেও। ফতুল্লার বিসিক শিল্পপার্কে অবস্থিত এমএস ডাইং প্রিন্টিং অ্যান্ড ফিনিশিং কারখানায় ১৮ আগস্ট থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। মহাব্যবস্থাপক বাবুল হোসেন জানিয়েছেন, দিনে ১১০ টন কাপড় ডাইং করার সক্ষমতা থাকলেও গ্যাস না থাকায় উৎপাদন সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে আছে। এতে গার্মেন্টস সেকশনে প্রয়োজনীয় কাপড় সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা সামগ্রিক উৎপাদন চেইনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

নরসিংদীর চিত্র কিছুটা ভিন্ন। সাটিরপাড়া এলাকার ভূঁইয়া টেক্সটাইল অ্যান্ড ক্যালেন্ডার মিলস টানা ২২ দিন বন্ধ থাকার পর গত সপ্তাহে শুধু রাতের বেলা সীমিত পরিসরে চালু করা সম্ভব হয়েছিল। দিনের বেলায় গ্যাসের চাপ শূন্যের কোঠায় নেমে আসায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে গতকাল বিকেল থেকে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়ায় আশার আলো দেখছেন পরিচালক আনিসুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি জানান, নিয়মিত ১৬-১৭ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। একই এলাকায় এশিয়া কম্পোজিট মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ রানা জানান, গ্যাসের চাপ ৩ থেকে ৭-৮ পিএসআই পাওয়ায় তারা সক্ষমতার ৭০-৭৫ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছেন।

শিল্প খাতে এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে ঘটা অগ্নিকাণ্ডকে দায়ী করা হচ্ছে। এরপর সামিটের টার্মিনাল থেকেও সরবরাহ ব্যাহত হয়। ১৫ আগস্ট এক্সিলারেট আংশিকভাবে এবং সামিটের টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলেও কার্গো জটিলতায় এক্সিলারেটের সরবরাহ পুনরায় তিন দিন বন্ধ ছিল। ২২ আগস্ট টার্মিনালটি পুনরায় সচল হওয়ার পর কিছু এলাকায় গ্যাসের চাপ কিছুটা বেড়েছে।

বিটিএমএর সহসভাপতি ও সংসদ সদস্য আবুল কালাম জানান, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে তার নিজের প্রতিষ্ঠান চৈতি কম্পোজিটেও উৎপাদন ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটে বস্ত্রকলগুলো আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং বিদেশি ক্রেতারাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তবে পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সংকট নিরসনে বিটিএমএ গত সপ্তাহে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে ই-মেইলের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছে। সংগঠনটি প্রতিটি কারখানার বর্তমান অবস্থা যাচাই-বাছাই করছে। মূল্যায়ন শেষে কারখানাগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সরকারি সহায়তার জন্য শিগগিরই মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই সময়ে পল্লী বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত জেনারেটরের সহায়তায় সীমিত উৎপাদন চালিয়ে যেতে হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত ২১ জুলাই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে নিয়োজিত এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল অগ্নিদুর্ঘটনায় বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা যদি ১৬-১৭ ঘণ্টা গ্যাসও পাই, তাহলে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতি কেজির ডাইং চার্জ ১০০ টাকা ধরলে ক্ষতির পরিমাণ বিপুল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শ্রীপুরের একটি বস্ত্রকলের মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাঁর কারখানায় গ্যাসের চাপ এখনো ২ পিএসআইয়ের নিচে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে সুতা উৎপাদন সক্ষমতার ৩০-৩৫ শতাংশের বেশি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এক মাস ধরে অধিকাংশ বস্ত্রকলেই প্রায় এমন অবস্থা চলছে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: [প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন নরসিংদী প্রতিনিধি]।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *