অষ্টম দফা চীন-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনার ফলাফল ব্যাখ্যা করেছেন চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা - Mati News
Tuesday, September 29

অষ্টম দফা চীন-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনার ফলাফল ব্যাখ্যা করেছেন চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা

২০ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসিতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দলগুলোর মধ্যে অষ্টম দফা বাণিজ্য আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় ইতিবাচক ঐকমত্যে পৌঁছানো হয়, যা দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠকের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ফলাফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমেরিকা ও ওশেনিয়া বিষয়ক বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য আলোচনার ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

১। চীন-মার্কিন বাণিজ্য পরিষদ

আলোচনার পর চীন ও যুক্তরাষ্ট্র ‘চীন-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনা ব্যবস্থা’র অধীনে ‘চীন-মার্কিন বাণিজ্য পরিষদ’ প্রতিষ্ঠায় সম্মত হয়েছে। এর প্রধান কাজ হবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে আরও অনুকূল করা।

দুই দেশের বাণিজ্য দল পরিষদের কার্যক্রম, কাঠামো, দায়িত্ব ও আলোচনার পদ্ধতি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। বাণিজ্য পরিষদ প্রথমে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর পারস্পরিক ৩০ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ শুল্ক হ্রাসের কাঠামো নিয়ে আলোচনা করবে এবং এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে।

২। ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ৩০ বিলিয়ন ডলারের পারস্পরিক শুল্ক হ্রাস ব্যবস্থা

দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠকে উপনীত গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য বাস্তবায়নের জন্য চীন ও যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বাণিজ্য পরিষদের কাঠামোর মধ্যে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক হ্রাসের বিষয়ে একাধিক দফা আলোচনা করেছে এবং এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

উভয়পক্ষ পারস্পরিক ভিত্তিতে একে অপরের কাছ থেকে আমদানি করা প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর শুল্ক কমাতে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্যের শুল্ক সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ হারে কমানো হবে।

৩. কয়লা বাণিজ্য সম্প্রসারণ

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দলগুলো একমত হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের কয়লা আমদানির ওপর শুল্ক ‘৩০ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ৩০ বিলিয়ন ডলার’ পারস্পরিক শুল্ক হ্রাসের কাঠামোর আওতায় আনা হবে।

এর ফলে ২০২৭ ও ২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনে বার্ষিক কয়লা আমদানি আরও সহজ হবে।

৪. চীন-মার্কিন বিনিয়োগ পরিষদ প্রতিষ্ঠা

আলোচনার পর চীন ও যুক্তরাষ্ট্র ‘চীন-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনা ব্যবস্থা’র অধীনে ‘চীন-মার্কিন বিনিয়োগ পরিষদ’ প্রতিষ্ঠায় সম্মত হয়েছে। এই পরিষদ দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগসংক্রান্ত যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করবে।

৫. কৃষি কার্যদল গঠন

চলতি বছরের মে মাসে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দলগুলো কিছু কৃষিপণ্যের অশুল্ক বাধা ও বাজারে প্রবেশসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে একাধিক ইতিবাচক ঐকমত্যে পৌঁছায়। একই সঙ্গে ‘৩০ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ৩০ বিলিয়ন ডলার’ পারস্পরিক শুল্ক হ্রাসের কাঠামোর আওতায় সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলো অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়।

এরপর দুই দেশের বাণিজ্য দল কৃষি বিষয়ে পেশাদার ও বাস্তবভিত্তিক আলোচনা চালিয়ে যায়।

৬. আর্থিক পরিষেবা

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন নিজ উদ্যোগে আর্থিক পরিষেবা খাতের উন্মুক্তকরণ সম্প্রসারিত করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এ উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং এর সুফল পেয়েছে অনেক মার্কিন অর্থায়নে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান। এবারের আলোচনায় দুই পক্ষ আর্থিক পরিষেবা বিষয়ে একটি নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

৭. চীন-মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংলাপ

এ দফার আলোচনায় দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে যে, চীন-মার্কিন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য আলোচনা ব্যবস্থার অধীনে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হ্য লিফেং এবং মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট নিজ নিজ প্রধান আলোচক হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংলাপ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবেন।

দুই পক্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি ও সম্ভাব্য সুফল নিয়ে মতবিনিময় করবে এবং প্রথম দফা সংলাপ আয়োজন করবে।

৮. কুয়ালালামপুর বাণিজ্য আলোচনার যৌথ ব্যবস্থার মেয়াদ বাড়ানো

২০২৫ সালের অক্টোবরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কুয়ালালামপুরে তাদের নিজ নিজ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যসংক্রান্ত উদ্বেগ নিরসনে একটি যৌথ ব্যবস্থায় পৌঁছায়। এর আওতায় দুই পক্ষ ২০২৬ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত কিছু শুল্ক ও অশুল্ক ব্যবস্থা স্থগিত রাখে।

এ দফার বাণিজ্য আলোচনায় দুই পক্ষ পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর লক্ষ্যে কুয়ালালামপুর বাণিজ্য আলোচনার যৌথ ব্যবস্থার মেয়াদ ২০২৭ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে সক্রিয়ভাবে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।

৯. চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট বৃদ্ধি

এ দফার আলোচনায় চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি যাত্রীবাহী ফ্লাইট বাড়ানোর বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে। দুই পক্ষ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ফ্লাইট বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে।

১০. আগের আলোচনায় উপনীত ঐকমত্য বাস্তবায়ন

গতবছর থেকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আট দফা অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণসহ অভিন্ন উদ্বেগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিষয়ে একাধিক পারস্পরিক লাভজনক, ভারসাম্যপূর্ণ ও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এসব সিদ্ধান্ত চীন-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হয়েছে।

সূত্র: সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *