পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার উদ্বোধনী বছরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি) তার ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে। কমরেড সি চিন পিং’কে কেন্দ্র করে সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটি কৌশলগত দূরদৃষ্টি ও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নিয়ে, নতুন যুগে পার্টি গঠনের নতুন প্রকল্পকে এগিয়ে নিতে নেতৃত্ব দিয়েছে সমগ্র পার্টিকে।
সি চিন পিংয়ের দল গঠন বিষয়ক চিন্তাধারার আলোকে কর্মসম্পাদনের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিপিসি তার মূল আকাঙ্ক্ষা ও লক্ষ্য অটুট রাখবে। একই সঙ্গে দলের সার্বিক ও কঠোর শাসন অব্যাহতভাবে এগিয়ে নিয়ে বৈপ্লবিক আত্মগঠনের মাধ্যমে শতবর্ষী এই দলকে করে তুলবে আরও শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত।
১ জুলাই সকালে বেইজিংয়ের মহাগণভবনে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকী উদযাপন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং ছয়টি দিক থেকে সিপিসির অনন্য বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন। এগুলো হলো—সত্যের অবিচল অনুসন্ধান ও সঠিক পথে থাকা; জনগণের মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত থাকা এবং শক্ত ভিত্তি বজায় রাখা; সাহসের সঙ্গে ঐতিহাসিক দায়িত্ব গ্রহণ ও কৌশলগত উদ্যোগ ধরে রাখা; উন্নয়নের ধারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সময়ের অগ্রভাগে থাকা; সংগ্রামের সাহস ও সক্ষমতা বজায় রেখে বিজয়ের প্রতি আস্থা রাখা; এবং আত্মগঠনকে গুরুত্ব দিয়ে সবসময় প্রাণশক্তিতে উজ্জীবিত থাকা।
একটি দেশকে ভালোভাবে পরিচালনা করতে হলে প্রথমে দলকে সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী করতে হয়। দল শক্তিশালী হলে দেশ উন্নয়নের পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যেতে পারে।
পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার সময়কাল হলো সমাজতান্ত্রিক আধুনিকায়নের ভিত্তি আরও মজবুত করা এবং নতুন অগ্রগতির জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। এই সময়ে সিপিসি কীভাবে সারাদেশের সকল জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে নেতৃত্ব দেবে এবং লক্ষ্য বাস্তবায়ন করবে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জানুয়ারিতে সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং ২০তম সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির চতুর্থ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের চেতনা অধ্যয়ন ও বাস্তবায়ন বিষয়ক প্রাদেশিক ও মন্ত্রীপর্যায়ের প্রধান নেতৃস্থানীয় ক্যাডারদের সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন। তিনি বলেন, পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার লক্ষ্য ও দায়িত্ব সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে পার্টির নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা এবং কার্যকারিতা আরও বাড়াতে হবে।
এ বছর সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটি কর্মসম্পাদনের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর লক্ষ্য হলো পার্টির সদস্য ও ক্যাডারদের—বিশেষ করে নেতৃস্থানীয় কর্মকর্তাদের—জনগণের সেবা, বাস্তব কাজ এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফল্য অর্জনের নীতি অনুসরণে উৎসাহিত করা। বসন্ত উৎসবের ছুটির পরপরই সমগ্র পার্টিতে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
চলতি বছরের শুরু থেকে সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পার্টির নেতৃত্ব ও সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়ে আসছেন। পার্টিকে আরও সুসংগঠিত, কার্যকর ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে নতুন দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন। বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিকবার পার্টি ও গণসেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করে তৃণমূল পর্যায়ে দল গঠনের কাজ জোরদারের নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
সি চিন পিংয়ের পার্টি গঠন বিষয়ক চিন্তাধারার নির্দেশনায়, ১০৫ বছরের ইতিহাসসমৃদ্ধ চীনের কমিউনিস্ট পার্টি তার প্রতিষ্ঠাকালীন চেতনা এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং মূল আকাঙ্ক্ষা ও লক্ষ্য অটুট রাখবে। সারাদেশের সকল জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে ঐক্যবদ্ধ ও নেতৃত্ব দিয়ে চীনা শৈলীর আধুনিকায়নের মাধ্যমে শক্তিশালী দেশ গঠন এবং জাতীয় পুনরুজ্জীবনের মহান লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে অব্যাহত প্রচেষ্টা চালাবে। আর এর মধ্য দিয়েই নতুন ঐতিহাসিক গৌরব রচনা করবে সিপিসি।
সূত্র: সিএমজি




















