চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের যাত্রা শুরু - Mati News
Monday, September 28

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের যাত্রা শুরু

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট’। দুই দেশের শিক্ষা বিনিময়ের ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক হিসেবে শনিবার বিকেলে ঢাকার আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত হয় ইনস্টিটিউটটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের ইয়ুননান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়-এর যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট। ২০২৫ সালের অক্টোবরে চাইনিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন ফাউন্ডেশনের অনুমোদন পাওয়ার পর একই বছরের নভেম্বরে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ কনফারেন্স’-এ দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনের সিপিসি ইয়ুননান প্রাদেশিক কমিটির স্থায়ী কমিটির সদস্য চাও চুনমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফরকান, ইয়ুননান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টি কমিটির সম্পাদক রুয়ান ছাওছি এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—বিকেএসপির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহসহ বাংলাদেশ ও চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট, চীনা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত এটি চতুর্থ কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এবং দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত প্রথম কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট।

অনুষ্ঠানে ইয়ুননান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টি কমিটির সম্পাদক রুয়ান ছাওছি বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আরও দক্ষ শিক্ষক পাঠানোর পাশাপাশি বাংলাদেশি তরুণদের চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সহযোগিতা করবে তার বিশ্ববিদ্যালয়। কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট দুই দেশের তরুণদের চীনা ভাষা শেখার পাশাপাশি পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও বোঝাপড়া বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

চাও চুনমিন বলেন, ইয়ুননান প্রদেশ কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের কার্যক্রমে ধারাবাহিকভাবে সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে দুই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজেদের বৈশিষ্ট্য ও দক্ষতার ভিত্তিতে ইনস্টিটিউটটিকে আরও সমৃদ্ধভাবে গড়ে তুলতে সহায়তা করা হবে।

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে নতুন যুগে বাংলাদেশ-চীন অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায় গঠনে আরও অবদান রাখা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন আশা প্রকাশ করেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট নতুন উদ্যোগ ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দেশের অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্যও দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।

পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা সম্মিলিতভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের নামফলক উন্মোচন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিল নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। ইয়ুননান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশনায় ঐতিহ্যবাহী সিংহ নৃত্য এবং চীনের মার্শাল আর্ট ‘দ্য উশু স্পিরিট অব চায়না’ দর্শকদের মুগ্ধ করে। পাশাপাশি বিকেএসপির পরিবেশনায় ‘দ্য রিদমস অব বাংলাদেশ’ এবং ইয়ুননান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যয়নরত চীনা শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে বাংলা গান পরিবেশিত হয়।

দুই দেশের শিল্পী ও শিক্ষার্থীদের এসব পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে ফুটে ওঠে বাংলাদেশ ও চীনের সংস্কৃতির বৈচিত্র্য এবং পারস্পরিক বন্ধুত্বের চিত্র।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের যাত্রা শুরু বাংলাদেশ-চীন শিক্ষা সহযোগিতাকে আরও গভীর ও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রথম কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি চীনা ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভাষাকে সেতু এবং সংস্কৃতিকে মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব আরও জোরদার করার পাশাপাশি দুই দেশের সভ্যতার মধ্যে বিনিময় ও পারস্পরিক শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে প্রতিষ্ঠানটি।

নাহার/হাশিম
তথ্য ও ছবি: সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *