ঢাকা, ১ সেপ্টম্বর: চীনের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সফল মডেল অনুসরণ করে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ধাপে ধাপে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি এই পরিকল্পনার আওতায় শিক্ষক প্রশিক্ষণ, চীনা ভাষা শিক্ষা, আধুনিক গবেষণাগার, ইন্টার্নশিপ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া সোমবার সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ পরিকল্পনার কথা জানান।
তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ২০২৬ সালেই প্রথম ব্যাচের বাংলাদেশি কারিগরি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে চীনা ভাষা শিক্ষা এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনে ইন্টার্নশিপের পাইলট কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনায় ২০২৭ সালে গাজীপুরে জাতীয় কারিগরি শিক্ষক প্রশিক্ষণ একাডেমি ও গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি মিরসরাইকে জাতীয় কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ২০২৮ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চীন-বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতার একটি টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে, যার মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যায়ে উন্নীত করা।
দাউদ মিয়া বলেন, চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, আধুনিক কারিগরি গবেষণাগার ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সুবিধা স্থাপন এবং চীনা ভাষার সহায়তাসম্পন্ন কারিগরি শিক্ষা চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চীনে প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে কার্যরত চীনা শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়টিও অগ্রাধিকার পেয়েছে।
তার মতে, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সফল হলে চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
সূত্র: সিএমজি




















