২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির বিংশ কেন্দ্রীয় কমিটির পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন বেইজিংয়ে আয়োজন করা হবে। এবার অধিবেশনে দীর্ঘস্থায়ী ও সার্বিকভাবে সিপিসিকে কঠোর প্রশাসন নিয়ে ধারাবাহিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। আন্তর্জাতিক সমাজের দৃষ্টিতে সিপিসি’র কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন চীনের নীতিমালার পর্যবেক্ষণ এবং দেশের উন্নয়নের কৌশল বিশ্লেষণের গুরুত্বপূর্ণ জানালা।
চীনের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতি ৫ বছর একবার জাতীয় কংগ্রেস আয়োজন করে সিপিসি। তাতে নতুন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচন করা হয়, কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন আয়োজনের মাধ্যমে সিপিসি ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে আলোচনা করা এবং সিপিসি’র কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন প্রতি বছরে কমপক্ষে একবার আয়োজন করা হয়।
১৯৭৮ সালে চীনের বৈদেশিক উন্মুক্তকরণ ও সংস্কার নীতি চালু করার পর থেকে প্রতি পর্যায়ের সিপিসি’র কেন্দ্রীয় কমিটির ৫ বছরের মেয়াদে সাধারণত ৭টি পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন আয়োজন করে থাকে। এর মধ্যে প্রথম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে নতুন পর্যায়ের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হওয়া। দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে জাতীয় প্রতিষ্ঠান এবং সিপিপিসিসি’র নেতাদের পদপ্রার্থী নিয়ে আলোচনা করা। তৃতীয় পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে সংস্কার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নির্ধারণ করা, চতুর্থ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে সিপিসি’র উন্নয়ন ও দেশ প্রশাসনের ওপর মনোযোগ দেওয়া। পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পাঁচসালা পরিকল্পনা নিয়ে পর্যালোচনা করা। ষষ্ঠ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে নমনীয়তার সাথে সিপিসি’র প্রশাসন ও ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার সারাংশ তৈরি করা এবং সপ্তম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে সিপিসি’র নতুন জাতীয় কংগ্রেসের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
তবে এবার বিংশ কেন্দ্রীয় কমিটির পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বিশেষভাবে সিপিসি’র পূর্ণাঙ্গ ও সার্বিকভাবে কঠোর প্রশাসন নিয়ে আলোচনা করা হবে। কারণ, চতুর্থ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা ইতোমধ্যে পর্যালোচনা করা হয়েছে।
২০২৬ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকী এবং পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার প্রথম বর্ষ। সংস্কারের বিভিন্ন কাজ সার্বিকভাবে চালু হয়েছে। এ সময় পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে সার্বিক ও কঠোরভাবে সিপিসি’র প্রশাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এটি চীনের সর্বোচ্চ নেতা সি চিন পিংয়ের নির্দেশনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, চীনের কাজ ভালো করে পরিচালনা করা সিপিসি’র ওপর নির্ভরশীল, এর মূল চাবিকাঠি সিপিসি’র স্বশাসন ও কঠোর শৃঙ্খলায়।
সূত্র: সিএমজি



















