চীনের শাসনব্যবস্থায় সিপিসির আত্ম-শাসন কেন গুরুত্বপূর্ণ - Mati News
Sunday, November 8

চীনের শাসনব্যবস্থায় সিপিসির আত্ম-শাসন কেন গুরুত্বপূর্ণ

মাহমুদ হাশিম

বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) পূর্ণাঙ্গ ও কঠোর আত্ম-শাসনের অঙ্গীকারের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, আত্ম-সংস্কার, শৃঙ্খলা এবং জনগণের সাথে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর সিপিসির এই গুরুত্বারোপ দলটির প্রাণশক্তি অটুট রাখতে এবং চীনের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গত ২৯ অক্টোবর সমাপ্ত সিপিসির ২০তম কেন্দ্রীয় কমিটির পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে, দলটি আত্ম-সংস্কার এবং দলের ভেতরে কঠোর শাসন ব্যবস্থা বজায় রাখার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায়।

কমরেড সি চিন পিং, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক ব্যুরোর পক্ষ থেকে, পার্টির ২০তম কেন্দ্রীয় কমিটির পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে, ‘চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সার্বিক ও কঠোরভাবে পার্টি-শাসন অব্যাহত রাখাসংশ্লিষ্ট কয়েকটি মূল বিষয়ে সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ব্যাখ্যা’ শীর্ষক বক্তব্য দেন।

ব্যাখ্যায় বলা হয়, সিপিসি’র বিকাশ দলটির ভবিষ্যৎ এবং পার্টি ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত। চলতি বছর চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকী। কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক ব্যুরো সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, পার্টির বিংশ কেন্দ্রীয় কমিটির পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন সার্বিক ও কঠোরভাবে পার্টি-শাসন অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করবে। এটি সিপিসি’র কেন্দ্রীয় কমিটি, চীনা শৈলীর আধুনিকায়নের সামগ্রিক পরিস্থিতির দিকে লক্ষ্য রেখে ও পরিস্থিতিকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনায় রেখে, গৃহীত একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, চীনের কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করার চাবিকাঠি হচ্ছে সিপিসি এবং সার্বিক ও কঠোরভাবে এর আত্মশাসন।

সিজিটিএন-এর সাথে সাক্ষাৎকারে রাশিয়া-চীন মৈত্রী সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ‘রাশিয়া-চীন মৈত্রী, শান্তি ও উন্নয়ন কমিটি’র বিশেষজ্ঞ কাউন্সিলের প্রধান ইউরি তাভরভস্কি বলেন, চীনের মতো একটি বিশাল দেশের ক্ষেত্রে দলের কঠোর শাসন ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।

সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিএসইউ) ইতিহাসের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হিসেবে তাভরভস্কি উল্লেখ করেন যে, আত্ম-শৃঙ্খলার অভাবই ছিল সিপিএসইউ’র গতি হারিয়ে ফেলার অন্যতম প্রধান কারণ।

তাভরভস্কি বলেন, “সিপিএসইউ এবং তাদের নেতৃত্বে থাকা সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের করুণ পরিণতির পেছনে বড় কারণ ছিল দলটির শিথিলতা এবং শাসক দল হিসেবে তাদের প্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলা।”

চীনের পূর্ণাঙ্গ ও কঠোর আত্মশাসন ব্যবস্থা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তাভরভস্কি বলেন, এটি সিপিসির মধ্যে নতুন প্রাণশক্তি সঞ্চার করবে এবং পুরো জাতির জন্য নতুন উদ্দীপনা বয়ে আনবে।

কিরগিজস্তানের পার্লামেন্টের সদস্য গুলিয়া কোঝোকুলোভাও একই ধরনের অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, সিপিসির প্রধান শক্তি হলো—সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের দিকে মনোনিবেশ করা, নিরন্তর আত্ম-সংস্কার চালিয়ে যাওয়া এবং জনগণের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা।

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, দলের অভ্যন্তরীণ শাসনের গুণমান সরাসরি জাতীয় শাসনের কার্যকারিতাকে নির্ধারণ করে। তিনি আরও যোগ করেন, সিপিসির নীতিগত ধারাবাহিকতা, দায়িত্ববোধ এবং দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জোরালো সক্ষমতা তাদের কৌশলগত পরিকল্পনাগুলোর মাধ্যমে ধারাবাহিক অর্থনৈতিক ফলাফল অর্জনে সহায়তা করে।

কোঝোকুলোভা বলেন, সিপিসির শাসন মডেল এবং উন্নয়নের পথ বর্তমান সময়ে জাতীয় উন্নয়নের একটি মানদণ্ড ও উদাহরণ হিসেবে কাজ করছে।

অনেকে চীনের ‘জনগণ-কেন্দ্রিক’ দর্শনেরও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন; এই দর্শনে শাসনব্যবস্থা ও কৌশলগত পরিকল্পনার প্রতিটি ক্ষেত্রে জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

ইতালীয় কমিউনিস্ট পার্টির জাতীয় সম্পাদক মাউরো আলবোরেসি বলেন, “যিনিই চীন ভ্রমণ করেছেন এবং সরাসরি দেশটির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন, তিনি অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে চীনের অর্জিত বিশাল সাফল্যে গভীরভাবে প্রভাবিত না হয়ে পারেননি।”

আলবোরেসি আরও বলেন, “মানুষ নিজের চোখেই দেখতে পায় যে, জনগণের বস্তুগত জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে চীন কতটা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।”

তিনি চীনের বাস্তবতার সঙ্গে মার্ক্সবাদকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সিপিসির প্রচেষ্টারও উচ্চ প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, চীনের এই অভিজ্ঞতা অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির জন্য একটি মূল্যবান দৃষ্টান্ত হতে পারে, যারা সামাজিক ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে কাজ করছে।

সূত্র: সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *