চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সিচাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের মারু টাউনশিপে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ৩০টির বেশি তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে। এসব তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছেন শিক্ষক, তাঁদের পরিবারের সদস্য ও বিদ্যালয়ের সহায়ক কর্মীরা।
বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে চীনের নাগছু শহরের বাছেন কাউন্টিতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে মারু টাউনশিপের একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিদ্যালয়ের দুটি ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে, জানালার কাচ ভেঙে গেছে এবং ভবনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের থাকার ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভূমিকম্পের সময় অনেক শিক্ষার্থী ঘুমিয়ে ছিল। খবর পেয়ে শিক্ষকরা দ্রুত আবাসিক ভবনে গিয়ে তাদের ঘুম থেকে তুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। এতে কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়নি। তবে কয়েকজন শিক্ষক আহত হয়েছেন।
বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে এখন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। সেখানে মোটা কাপড়ের তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের জন্য লেপ, খাবার, নাশতা ও স্থানীয় চায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভূমিকম্পের পরদিনই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়। আশ্রয় নেওয়া সবাইকে দিনে তিন বেলা খাবার দেওয়া হচ্ছে।
আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা এক শিশু জানায়, একটি তাঁবুতে ছয়জন করে থাকছে। তাদের দেওয়া লেপগুলোও বেশ মোটা। আমার পরিবার এখানে আছে, তাই জায়গাটিকে বাড়ির মতো মনে হচ্ছে। এখানে সকালে, দুপুরে ও রাতে খাবার পাচ্ছি।’
এদিকে, শীতকালীন ছুটি শুরু না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালু রাখার পরিকল্পনা করছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ জন্য অনলাইনে ক্লাস নেওয়া অথবা শিক্ষার্থীদের কাছের নিরাপদ বিদ্যালয়ে পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
শীতের কথা চিন্তা করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অস্থায়ী ঘর তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ইউনিট চেয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে এগুলো পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তাঁবুর পরিবর্তে এসব ঘর ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি, এগুলোতে অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষও তৈরি করা হবে।
সূত্র: সিএমজি




















