চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনা: মার্কিন ব্যবসায়ী মহলে প্রত্যাশার আলো - Mati News
Sunday, October 18

চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনা: মার্কিন ব্যবসায়ী মহলে প্রত্যাশার আলো

ওয়াশিংটনে, চীন-যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ আর্থ-বাণিজ্যিক আলোচনা শুরু হয়েছে গতকাল শনিবার; চলবে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। চীনা কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিসি’র কেন্দ্রীয় পলিট ব্যুরোর সদস্য ও দেশের উপ-প্রধানমন্ত্রী হ্য লি ফেং, এ আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শনিবার জানায়, দু’দেশের নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ মতৈক্যের ভিত্তিতে, অভিন্ন কল্যাণের আর্থ-বাণিজ্যিক ইস্যুগুলো নিয়ে দু’পক্ষ আলোচনা করবে।

এই আলোচনা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের আরও অগ্রগতির বিষয়ে মার্কিন ব্যবসায়ী ও শিল্পগোষ্ঠীগুলোর মধ্যেও প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন রপ্তানি পরিষদ-ইউএসএসইসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিম সাটার বলেছেন, তিনি চীন-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী এবং মার্কিন সয়াবিন শিল্প আরও ইতিবাচক অগ্রগতির অপেক্ষায় রয়েছে।

সাটার বলেন, কৃষি বাণিজ্য—বিশেষ করে সয়াবিন—দীর্ঘদিন ধরে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি স্থিতিশীল ভিত্তি বা ভারসাম্য রক্ষাকারী উপাদান হিসেবে কাজ করে আসছে এবং অতীতের নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সেই ভূমিকা অপরিবর্তিত রয়েছে। মার্কিন কৃষকরা সবসময়ই চীনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার এবং তাদের বৃহত্তম বৈদেশিক বাজার হিসেবে বিবেচনা করে এসেছেন।

তিনি বলেন, “ইউএসএসইসি উন্মুক্ত ও অবাধ বাণিজ্যকে গুরুত্ব দেয়। বাজারে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে নিশ্চয়তা থাকলে বাণিজ্যের প্রবাহ সহজতর হয়, যা উভয়পক্ষের জন্যই লাভজনক। চীনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন-কেন্দ্রিক সম্পর্কটি কাঠামোগত ও ভিত্তিস্বরূপ; এটি কোনো সাময়িক বা চক্রাকার বিষয় নয়—এর পারস্পরিক সুফল সুস্পষ্ট, প্রমাণিত এবং দীর্ঘস্থায়ী।”

মরগান স্ট্যানলির চীনের প্রধান অর্থনীতিবিদ রবিন সিং বলেছেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বৃহত্তর কৌশলগত স্থিতিশীলতা উভয় দেশের অর্থনীতির জন্যই লাভজনক হবে।

“নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতি ও সংবেদনশীল ক্ষেত্রে উভয়পক্ষের স্বার্থ ও অগ্রাধিকার ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও প্রতিযোগিতা থাকাটা স্বাভাবিক। তবে বৈশ্বিক উন্নয়নের বৃহত্তর এজেন্ডা নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো এবং তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল কৌশলগত পরিবেশ গড়ে তোলা উভয় পক্ষের জন্যই অধিকতর লাভজনক হবে”— শনিবার বেইজিংয়ে আয়োজিত ‘২০২৬ সিংহুয়া পিবিসিএসএফ চিফ ইকোনমিস্টস ফোরাম’-এর এক ফাঁকে কথা বলার সময় সিং এ সব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, “চীন অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি ও অধিকতর ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চাক কিংবা যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঋণের টেকসই ব্যবস্থাপনার বিষয়টি সমাধান করতে চাক—উভয় লক্ষ্য অর্জনের জন্যই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা ও সংযত মনোভাব বজায় রাখা প্রয়োজন।”

চীনা বাজারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে ‘কোচ চায়না’র প্রেসিডেন্ট লিলিয়ানা লুসিওনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই ফ্যাশন কোম্পানিটি চীনে তাদের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের উল্লেখযোগ্য সুযোগ দেখছে; বর্তমানে সেখানে ৯০টিরও বেশি শহরে তাদের ৩৫০টিরও বেশি স্টোর রয়েছে।

তিনি জানান, কোচ তাদের কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো এবং ‘অমনিচ্যানেল’ (বিভিন্ন মাধ্যমে সমন্বিত কেনাকাটার) অভিজ্ঞতা উন্নত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি, তারা পণ্যের উদ্ভাবন ও কারুশৈলীতে বিনিয়োগ করবে এবং স্থানীয়ভাবে প্রাসঙ্গিক পণ্য ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে চীনা ভোক্তা—বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের—সাথে সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করবে।

কোচ-এর মূল প্রতিষ্ঠান ‘ট্যাপেস্ট্রি ইনকর্পোরেটেড’ গত মাসে ঘোষণা করেছে যে, তাদের ২০২৬ অর্থবছরে বৈশ্বিক আয় রেকর্ড ৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যার মধ্যে প্রায় ১৭ শতাংশই এসেছে চীন থেকে। পুরো বছরজুড়ে চীনে তাদের আয় ৩০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশটিকে কোম্পানিটির অন্যতম বৃহত্তম ও দ্রুত বর্ধনশীল বাজারে পরিণত করেছে।

লুসিওনি বলেন, এই ফলাফলে তারা অত্যন্ত আশান্বিত—চীনে তাদের ব্যবসার জন্য এটি একটি রেকর্ড-গড়া সাফল্য। তারা বিশ্বাস করেন, স্থানীয় ভোক্তাদের সাথে সংযোগ গভীর করা এবং নিজেদের উপস্থিতি আরও জোরদার করার মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির বিশাল সুযোগ এখনো তাদের প্রতিষ্ঠানের সামনে রয়েছে। এমন অভিমত বেশিরভাগ মার্কিন কোম্পানির।

সূত্র: সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *