ঢাকা, সেপ্টেম্বর ২১, সিএমজি বাংলা: বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শাসনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে ঢাকায় শুরু হয়েছে চীন-বাংলাদেশ শাসনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বিনিময় বিষয়ক দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠক।
সোমবার ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের ক্রিস্টাল বলরুমে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই বৈঠক চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
উদ্বোধনী সেশনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহছানুল হক মিলন, চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাও ফেং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং শাংহাই ইনস্টিটিউটস ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সিনিয়র গবেষক লি খাইশেং-সহ আরও অনেকে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ বা বিআইআইএসএস, ওসমানি সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ এবং চীনের শাংহাই ইনস্টিটিউটস ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে এ আয়োজন করা হচ্ছে।
বৈঠকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিবর্তনের প্রভাব, বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়ন এবং দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে চীন-বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।
বৈঠকের প্রথম অধিবেশনে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব এবং চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে। এতে মধ্যপ্রাচ্য-পরবর্তী পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, নতুন বিশ্বায়নের যুগে বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক পরিবেশে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করবেন বাংলাদেশ ও চীনের বিশেষজ্ঞরা।
দ্বিতীয় অধিবেশনে বঙ্গোপসাগরের নীল অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হবে। এতে সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নীল অর্থনীতিতে চীনের অভিজ্ঞতা, সমুদ্র-ভিত্তিক অর্থায়ন এবং বঙ্গোপসাগরে নীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিভিন্ন দিক উঠে আসবে। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে নীল অর্থনীতি এবং সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও মতবিনিময় করবেন আলোচকরা।
বৈঠকের তৃতীয় অধিবেশনে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে চীন-বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে। এতে দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্গঠন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, চীনের স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করে আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
গোলটেবিল বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিআইআইএসএস, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস এবং চীনের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, নিজেদের জাতীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়নের পথ অনুসন্ধান এবং দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ক্রমাগত গভীর হয়েছে।
তথ্য ও ছবি: সিএমজি বাংলা





















