চীনা বংশোদ্ভূত মার্কিন শীর্ষস্থানীয় ডিজাইনারদের মিলনমেলা দেখল নিউইয়র্ক। সেখানে হয়ে গেল চীনা ইনস্টিটিউট অব আমেরিকার শতবর্ষ উদযাপন। শুক্রবার এই ইনস্টিটিউটের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এই হাই-ভোল্টেজ আয়োজনে এক শতাব্দির আন্তঃসাংস্কৃতিক প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানস্থলে উচ্চ ফ্যাশনের এক জমকালো আয়োজনে ১০০ বছরের চীনা ঐতিহ্য গুরুত্ব পায়। হাউট কুতুরের জগতে খ্যাতিমান কয়েকজন ডিজাইনার তাদের কাজ উপস্থাপন করেন। তাদের সৃষ্টিশীলতা একটি দেশ বা সংস্কৃতির গণ্ডি পেরিয়ে বহুদূর ছড়িয়ে পড়েছে।
হাউট কুতুর বলতে অভিজাত ফ্যাশন হাউসগুলোর তৈরি বিশেষ নকশার, হাতে তৈরি পোশাকের ঐতিহ্যকে বোঝায়। এটি ফ্যাশন শিল্পে কারিগরি দক্ষতার সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করে।
র্যাম্পে ডিজাইনারদের বক্তব্যে তাদের নকশার পেছনে থাকা সাংস্কৃতিক গভীরতা উঠে আসে। তারা ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক উদ্ভাবনের যোগসূত্র তুলে ধরেন।
ফ্যাশন ডিজাইনার ভেরা ওয়াং বলেন, ‘অসাধারণ অনেক ডিজাইনার রয়েছেন। তাদের মধ্যে কুয়ো ফেইয়ের কথা বলা যায়। তিনি পোশাক তৈরির ক্ষেত্রে হাউট কুতুরের পর্যায়ে যাওয়ার সাহস দেখিয়েছেন, যা যেকোনো পরিস্থিতিতেই অত্যন্ত কঠিন। আমার মনে হয়, এটি শুধু চীনের ফ্যাশনের বিবর্তন নয়, বরং সামগ্রিকভাবে চীনের বিবর্তন সম্পর্কেও অনেক কিছু তুলে ধরে।‘
ফ্যাশন ডিজাইনার কুয়ো ফেই বলেন, ‘ফ্যাশন গুরুত্বপূর্ণ। এটি এমন এক বাতাসের মতো, যা পূর্ব থেকে পশ্চিমে এবং পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রবাহিত হয়। আর পুরো বিশ্ব তা দেখছে। এটি সংস্কৃতি, শিল্প ও মানুষের অনুভূতি বহন করে। ফ্যাশনের জগতে হাউট কুতুর হলো সেই চূড়া, যার দিকে সবাই তাকিয়ে থাকে। একজন হাউট কুতুর ডিজাইনার হিসেবে আমি পোশাকের মাধ্যমে সংস্কৃতি ভাগ করে নিতে পারি এবং ফ্যাশন ও শিল্পের প্রতি আমার ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারি।‘
ভেরা ওয়াং ও কুয়ো ফেইয়ের মতো সুপরিচিত নামের পাশাপাশি আরও কয়েকজন চীনা ডিজাইনারও এ অনুষ্ঠানে তাদের কাজ উপস্থাপন করেন। ভিভিয়েনে টাম শতবর্ষ উপলক্ষে একটি বিশেষ পোশাকের সংগ্রহ প্রথমবারের মতো প্রদর্শন করেন।
নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকের প্রতিষ্ঠাতা ফার্ন মালিস বলেন, ‘আমার মনে আছে, প্রায় ২০ বছর আগে, বলা যায় প্রায় ২৫ বছর আগে, আমি চীনে গিয়েছিলাম। তখনকার ডিজাইনাররা মোটামুটি ভালো ছিলেন। কিন্তু আমরা সব সময় বলতাম, তারা সফল হবেন। কারণ দেশটি অসাধারণ।‘
শতবর্ষের এ জমকালো আয়োজন বিশ্ব ফ্যাশনের মঞ্চে চীনা ঐতিহ্যের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে। আধুনিক কারিগরি দক্ষতার মাধ্যমে ডিজাইনাররা ঐতিহ্যকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নতুন দর্শকদের কাছে তা পৌঁছে দিচ্ছেন।
সূত্র: সিএমজি




















