বিশ্বমঞ্চে চীনা গণিতবিদদের প্রভাব বাড়ছে: সিএমজিকে ফিল্ডস পদকজয়ী ম্যাক্সিম কন্তসেভিচ - Mati News
Saturday, October 10

বিশ্বমঞ্চে চীনা গণিতবিদদের প্রভাব বাড়ছে: সিএমজিকে ফিল্ডস পদকজয়ী ম্যাক্সিম কন্তসেভিচ

ফিল্ডস পদকজয়ী গণিতবিদ ম্যাক্সিম কন্তসেভিচ। তিন বছর আগেই তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, চীন থেকে ফিল্ডস পদকজয়ী আসবে। ওয়াং হং ও তেং ইয়ু—দুই চীনা গণিতবিদ এই সম্মান অর্জন করে সত্য করেছেন সেই ভবিষ্যদ্বাণী। এই সাফল্যকে কীভাবে দেখছেন কন্তসেভিচ? গণিত ও তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের সংযোগস্থলে দীর্ঘদিন গবেষণা করা এই বিজ্ঞানী মৌলিক বিজ্ঞানের গুরুত্ব কীভাবে ব্যাখ্যা করেন? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের যুগে গণিত ও মানববুদ্ধিমত্তার সম্পর্ক কোন দিকে গড়াচ্ছে? চায়না মিডিয়া গ্রুপকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব বিষয়ে মতামত তুলে ধরেছেন তিনি।

ফিল্ডস পদককে বলা হয় ‘গণিতের নোবেল’। গণিতের দুনিয়ায় অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মান এটি। চার বছর পরপর এই পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কার প্রদানের বছরে ৪০ বছরের কম বয়সী যারা গণিতে অসামান্য অবদান রেখেছেন, তারাই এই সম্মানের জন্য বিবেচিত হন। ম্যাক্সিম কন্তসেভিচ ছিলেন তাদেরই একজন।

দীর্ঘদিন ফ্রান্সে গণিত নিয়ে গবেষণা করছেন তিনি। এখন ফরাসি বিজ্ঞান একাডেমির সদস্য এবং ইনস্টিটিউট দে ওত এতুদ সায়ঁতিফিকের অধ্যাপক।

এ বছরের জুলাইয়ে দুই চীনা গণিতবিদ তেং ইয়ু ও ওয়াং হং একসঙ্গে ফিল্ডস পদক অর্জন করেছেন। কন্তসেভিচ বলেন, এই ফলাফল তাকে মোটেও বিস্মিত করেনি।

চীনের গণিত গবেষণা নিয়ে কন্তসেভিচ বলেন, ‘চীনে গণিতচর্চার মান ধারাবাহিকভাবে উন্নত হচ্ছে। গণিত নিয়ে এ দেশের গবেষণার ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি অত্যন্ত আশাবাদী। চীনে অসাধারণ মেধাবী গণিতজ্ঞের সংখ্যা অনেক। দেশটির গণিতচর্চার গভীর ঐতিহাসিক ভিত্তিও আছে। গত শতাব্দীর ১৯২০ ও ১৯৩০-এর দশকেই সংখ্যাতত্ত্বে চীন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছিল। এখন এর আরও অনেক শাখায় এগিয়ে যাচ্ছে চীন।’

চীনের সামাজিক ও সাংগঠনিক সক্ষমতা সম্পর্কেও নিজের আগ্রহের কথা জানান কন্তসেভিচ। তিনি বলেন, ‘চীন যেভাবে সম্পদ সমন্বয় করে, পরিকল্পনা করে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারে, তা অবাক করার মতো। পশ্চিমা দেশগুলোতে ঠিক এই বৈশিষ্ট্যটিরই অভাব রয়েছে। বিভিন্ন কারণে পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষে দীর্ঘমেয়াদি বৃহৎ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।’

সাক্ষাৎকারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের ফলে গণিতের সামনে তৈরি হওয়া সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়েও আলোচনা করেন অধ্যাপক কন্তসেভিচ। পাশাপাশি মৌলিক বিজ্ঞান এবং আন্তঃবিষয়ক গবেষণার গুরুত্ব সম্পর্কেও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

তার মতে, বিশ্বমঞ্চে চীনা গণিতবিদদের উপস্থিতি ও প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। একই সঙ্গে মৌলিক বিজ্ঞানের বিকাশের ওপর চীন যেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে সেটাও তাৎপর্যপূর্ণ।

সূত্র: সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *