লং মার্চের স্মৃতিচারণ: এক বাটি করে মরিচপানি খেয়ে দুর্গম পর্বতে ওঠা শুরু করেন সেনারা - Mati News
Wednesday, October 14

লং মার্চের স্মৃতিচারণ: এক বাটি করে মরিচপানি খেয়ে দুর্গম পর্বতে ওঠা শুরু করেন সেনারা

চীনের রেড আর্মির সেই মহান লং মার্চের সময় অবর্ণনীয় কষ্ট ও ক্লান্তিতেও অকুতোভয় সৈন্যদের সেই চেতনা আজও মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। এ কথা বলেছেন চিয়াচিনশান গ্রামের চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি) শাখার উপ-সম্পাদক ওয়াং কুওখাং। স্থানীয় বাসিন্দাদের কল্যাণে নিজের সাধ্যমতো কাজ করতে চান বলেও জানান তিনি।

লং মার্চের বিজয়ের ৯০তম বার্ষিকী পালন করছে চীন। লং মার্চ ছিল চীনের রেড আর্মির এক বিপজ্জনক ও ঐতিহাসিক অভিযান। গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এ অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

১৯৩৫ সালের জুনে সিছুয়ান প্রদেশের তাতু নদী পাড়ি দিয়ে দুঃসাহসিক অভিযান চালানোর পর সৈন্যদের সামনে আরেকটি বাধা এসে দাঁড়ায়। সেটি ছিল ৪ হাজার মিটার উঁচু বরফে ঢাকা এক পর্বত।

দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিছুয়ান প্রদেশের চিয়াচিন পর্বত ছিল লং মার্চের সময় রেড আর্মির অতিক্রম করা প্রথম তুষারাবৃত পর্বত। তিব্বতি ভাষায় ‘চিয়াচিন’ শব্দের অর্থ ‘অত্যন্ত উঁচু ও খাড়া’। রেড আর্মিকে প্রায় ২ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা থেকে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার ১১৪ মিটার উঁচু পর্বতগিরিপথে উঠতে হয়েছিল।

পর্বতের পাদদেশের গ্রামে বসবাসকারী স্থানীয় তিব্বতিরা পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেন। ওয়াংয়ের মতে, পর্বত অতিক্রমের সময় রেড আর্মির জন্য মরিচ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ওয়াং বলেন, ‘জুন মাসে আবহাওয়া ছিল অত্যন্ত অনিশ্চিত। পর্বতে তুষারপাত হচ্ছিল। সৈন্যদের শরীর গরম রাখতে স্থানীয় মানুষ তাদের নিজেদের উৎপাদিত মরিচ দিয়েছিলেন।‘

সৈন্যদের কয়েকজনের দিনলিপিতেও এ ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। সিপিসির প্রাথমিক পর্যায়ের নেতা তেং ফা ১৯৩৬ সালে লেখা তার একটি দিনলিপিতে উল্লেখ করেন, ‘ফলে আমাদের আর কিছুই করার ছিল না। প্রতিটি কোম্পানিকে মরিচের পানি ফুটিয়ে নিতে হয়েছিল। পর্বতে ওঠার আগে প্রত্যেক সৈন্য এক বাটি করে সেই পানি পান করেছিলেন।‘

আরেকটি আরও বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জ ছিল উচ্চতা। সৈন্যদের কাছে আগে থেকেই খাবার ও পোশাকের ঘাটতি ছিল। এর মধ্যে মাত্র এক দিনে প্রায় ২ হাজার মিটার উচ্চতা অতিক্রম করে ৪ হাজার মিটার উঁচু পর্বতগিরিপথে পৌঁছাতে হয়েছিল তাদের।

সিপিসির প্রখ্যাত বিপ্লবী ইয়াং ছেংয়ু তার স্মৃতিচারণায় বলেন, ‘আমরা যখন পর্বতগিরিপথের কাছাকাছি পৌঁছাই, তখন হঠাৎ শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। আখরোটের আকারের শিলাখণ্ড আমাদের ওপর আছড়ে পড়ছিল। সেগুলোর আঘাতে আমাদের মুখ ফুলে গিয়েছিল এবং ব্যথা হচ্ছিল। মাথা হাত দিয়ে ঢেকে সামনে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় ছিল না।‘

তবে প্রতিকূল আবহাওয়া রেড আর্মিকে দমাতে পারেনি। সাত দিন পর, ১৯৩৫ সালের ১৮ জুন, পুরো কেন্দ্রীয় বাহিনী পর্বতটি অতিক্রম করে।

সূত্র: সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *