মেধাস্বত্বের অধিকার কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবন ত্বরান্বিত করা, নতুন ধারণার সুরক্ষা এবং উদ্ভাবনী সমাধানের প্রসারে সক্ষমতার স্বীকৃতিস্বরূপ শাংহাইকে প্রথমবারের মতো ‘ডব্লিউআইপিও সিটি অব ইনোভেশন’ পুরস্কারের অন্যতম বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি অর্গানাইজেশন (ডব্লিউআইপিও) এ পুরস্কার ঘোষণা করে।
প্রথমবারের এই পুরস্কারের জন্য চূড়ান্ত তালিকায় থাকা ১৫টি শহরের মধ্যে অন্য দুই বিজয়ী হলো যুক্তরাজ্যের লিভারপুল এবং বেলজিয়ামের চার্লেরোই।
ডব্লিউআইপিও জানিয়েছে, একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক জুরি শাংহাইকে স্বীকৃতি দিয়েছে। মেধাস্বত্ববিষয়ক শিক্ষা ও পরিষেবার প্রসার, উদ্ভাবনী অবকাঠামো ও তথ্যের উন্মুক্তকরণ, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল শিল্পে সহায়তা এবং গবেষণা, শিল্প খাত, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংযোগ জোরদারে শহরটির উদ্যোগের জন্য এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
ডব্লিউআইপিও’র মহাপরিচালক তারেন থাং বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ শহরে বসবাস করেন। ২০৫০ সালের মধ্যে এ হার ৭০ শতাংশে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।‘
তিনি বলেন, ‘শহরের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ভিন্ন পটভূমি, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও আকাঙ্ক্ষার মানুষ একত্রিত হন। এতে প্রায়ই নতুন ধারণার জন্ম হয় এবং সেগুলো বিকশিত হয়। তবে প্রকৃত উদ্ভাবনের জন্য এমন একটি পরিবেশ দরকার, যেখানে মেধাস্বত্ব নতুন ধারণাকে সুরক্ষা দেয়, উদ্ভাবকদের ক্ষমতায়িত করে এবং কোনো সমাধানকে প্রাথমিক ধারণা থেকে বাস্তব প্রয়োগের পর্যায়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করে।‘
শাংহাই মিউনিসিপাল পিপলস গভর্মেন্টের উপ-মহাসচিব চৌ ইয়ামিং বলেন, ‘এ পুরস্কার শাংহাইয়ের উদ্ভাবনী উন্নয়ন এবং প্রাণবন্ত মেধাস্বত্বব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টার প্রতি ডব্লিউআইপিও’র জোরালো স্বীকৃতি।‘
সিনহুয়া নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চৌ বলেন, ‘এটি উন্মুক্ত উদ্ভাবন, পারস্পরিক সুবিধা এবং যৌথ সাফল্যের প্রতি চীনের অঙ্গীকারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনও প্রতিফলিত করে।‘
বহুজাতিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবিবি-ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে শাংহাইয়ের অগ্রণী উদ্যোগের প্রশংসা করেছে। কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোর্টিন উইয়েরোড শহরটির এআই-ভিত্তিক পরিবেশে মুগ্ধ। এ পরিবেশে কম্পিউটিং সক্ষমতা, বিভিন্ন মডেল ও সেগুলোর ব্যবহারিক প্রয়োগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শাংহাইয়ের পৌর সরকার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য আগাম পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে উৎপাদন, তথ্যপ্রযুক্তি, উপকরণ, জ্বালানি, মহাকাশ এবং স্বাস্থ্যসেবা— এই ছয়টি ভবিষ্যৎমুখী শিল্পের উন্নয়নে সহায়তার জন্য একটি তহবিল চালু করে সরকার। সরকারি বাজেটের অর্থায়নে পরিচালিত এ তহবিলের প্রাথমিক আকার ছিল ১০ বিলিয়ন ইউয়ান (১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)।
আধুনিক শিল্প কাঠামোর অংশ হিসেবে শাংহাইয়ের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০২৬-২০৩০) এ ছয়টি শিল্পকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সূত্র: সিএমজি


















