সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতদের সম্মানী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে তার দপ্তর থেকে পায়ে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পৌঁছান।
জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার আশ্রয় নিয়ে মানুষকে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, দেশে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উস্কানি বা বিদ্বেষ যেন অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।
শ্রীকৃষ্ণের জন্মের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে মথুরায় যখন সনাতন ধর্মের প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়, তখন সেখানে কংসের মতো নিষ্ঠুর ও অত্যাচারী শাসকের রাজত্ব ছিল। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের মাধ্যমেই সেই স্বৈরাচারী শাসকের পতন ঘটেছিল। তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশেও দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে কংসের মতো এক নিষ্ঠুর শাসক ক্ষমতা দখল করে রেখেছিল। তবে দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ হাজারো প্রাণের বিনিময়ে সেই ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটিয়েছে এবং দেশে পুনরায় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে।
দেশ পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে সরকারপ্রধান বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটিয়ে দেশ গড়ার সময় এখন। তিনি বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু পরিচয় মুখ্য নয়; বরং নিজেদের বাংলাদেশি হিসেবে ভাবাই প্রকৃত পরিচয়। স্বাধীনতার ঘোষকের রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখার মূলমন্ত্র হিসেবে কাজ করে বলে তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আবহমানকাল ধরে বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে নিজ নিজ সংস্কৃতি ও ধর্ম পালন করে আসছে। তবে মাঝেমধ্যে কংস চরিত্রের মানুষেরা সমাজে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। এই অপশক্তি যেন আর মাথাচাড়া দিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সমৃদ্ধ স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর জোর দেন তারেক রহমান। তিনি জানান, এই লক্ষ্য অর্জনেই বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতাসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘সংখ্যালঘু’’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ নয়, আসুন সবাই নিজেদেরকে বাংলাদেশি ভাবি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘‘হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্রমতে, কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্ম নিয়েছিলেন সনাতন ধর্মের প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন-ই ছিল শ্রীকৃষ্ণের অন্যতম ব্রত।’’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একটি রাষ্ট্র এবং সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মিলন থাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আজকের এই অনুষ্ঠানে যারা ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ হিসেবে বিবেচিত, ‘ইউরোপ’ কিংবা ‘আমেরিকা’ সফরে গেলে আমরা সবাই কিন্তু কথিত ‘সংখ্যালঘু’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সমাজ বিরোধী অপশক্তি আর যাতে মাথাছাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, আর কেউ যেন বিরাজমান সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য আমাদের সকলকে অবশ্যই সতর্ক থাকা প্রয়োজন।




















