চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বকে আরও গভীর করতে দুই দেশের তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেছেন, তরুণদের চীনা ভাষা শেখা, চীনকে জানা এবং শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘ঢাকা চায়না ডে’ অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, “চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের ভবিষ্যৎ তরুণদের হাতে। আমি আশা করি, বাংলাদেশের আরও বেশি তরুণ চীনা ভাষা শিখবে, চীনকে বুঝবে এবং পড়াশোনা, বিনিময় ও সফরের জন্য চীনে যাবে।”
তিনি বলেন, দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বের গভীরতা বাড়ছে। ৫১ বছর ধরে চীন ও বাংলাদেশ পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং পারস্পরিক কল্যাণের ভিত্তিতে সহযোগিতা করে আসছে।
চীনের রাষ্ট্রদূত জানান, চীন টানা ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, সড়ক, সেতু, ডিজিটাল অর্থনীতি, সবুজ উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারিত হচ্ছে।
শিক্ষা সহযোগিতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে চারটি কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট ও কনফুসিয়াস ক্লাসরুম রয়েছে। শিগগিরই পঞ্চম কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট চালু হবে। বাংলাদেশে প্রায় এক লাখ মানুষ চীনা ভাষা শিখছেন এবং প্রায় ৬০টি চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা রয়েছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, চীনা ভাষা ও কারিগরি দক্ষতার সমন্বয় তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় বাংলাদেশি তরুণদের আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তরুণদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে চাকরি ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা হবে।
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘ঢাকা চায়না ডে’ প্রসঙ্গে ইয়াও ওয়েন বলেন, এ ধরনের আয়োজন চীনা সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের অগ্রগতি সম্পর্কে বাংলাদেশের তরুণদের ধারণা পাওয়ার সুযোগ করে দেবে।
তিনি চীন-বাংলাদেশ ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে এগিয়ে নিতে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক বিনিময় আরও বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তথ্য ও ছবি- সিএমজি




















