চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের সঙ্গে জবির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর - Mati News
Wednesday, September 23

চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের সঙ্গে জবির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

বাংলাদেশের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ও চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

আর্থ অবজারভেশন-ভিত্তিক বৈজ্ঞানিক তথ্য ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যৌথ গবেষণা কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে সম্প্রতি চীনের শাংহাইয়ে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।

এ উপলক্ষে সোমবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের কাছে তার দপ্তরে সমঝোতা স্মারকের স্বাক্ষরিত অনুলিপি হস্তান্তর করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল কাদের ও ড. মো. আব্দুল মালেকসহ ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষকগণ।

সমঝোতা স্মারকের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ইন্টারন্যাশনাল ডেটা নেটওয়ার্ক ফর আর্থ অবজারভেশনের আওতায় বাংলাদেশে একটি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার অব এক্সিলেন্স প্রতিষ্ঠা করা।

চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের পক্ষে অধ্যাপক লি কুওছিং এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। উপাচার্য বাংলাদেশ থেকে ভিডিও বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শাংহাইয়ে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল কাদের ও ড. মো. আব্দুল মালেক।

ভিডিও বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ‘এই সমঝোতা স্মারক শুধু একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি নয়; বরং দুই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা, উদ্ভাবন, উন্নত গবেষণা ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, উন্নত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং দেশের গবেষণা সক্ষমতা জোরদারে এই অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সমঝোতার আওতায় কৃষি পর্যবেক্ষণ, দুর্যোগকালীন জরুরি সাড়া প্রদান, আর্থ অবজারভেশন এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য-ভিত্তিক পণ্য উন্নয়নে যৌথ গবেষণা পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি মানসম্মত ডেটাসেট, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-উপযোগী ডেটাসেট যৌথভাবে উন্নয়নের সুযোগ থাকবে। শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কারিগরি প্রশিক্ষণ, জনবল ও একাডেমিক বিনিময়, আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং বিষয়-ভিত্তিক কর্মশালা আয়োজনও এ সহযোগিতার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

শাংহাইয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব লাওস এবং থাইল্যান্ডের মাহানাকর্ন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয় দুটিও চীনা অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় এবং চীনের বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আর্থ অবজারভেশন ও গবেষণা সহযোগিতার একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরের তারিখ থেকে তিন বছর কার্যকর থাকবে এবং উভয় পক্ষের পারস্পরিক সম্মতিতে-এর মেয়াদ নবায়ন করা হবে।

সূত্র: সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *