ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর, সিএমজি বাংলা: নতুন যুগের বিশ্বায়ন এবং এতে চীন ও বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেছেন শাংহাই ইনস্টিটিউটস ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ইনস্টিটিউট ফর ওয়ার্ল্ড ইকোনমি স্টাডিজের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. ইয়ে ইউ। বিশ্বায়নের বর্তমান গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি তিনটি মূল বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেন— নতুন বিশ্বায়নের চরিত্র, বাংলাদেশের সামনে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ এবং এতে চীনের ভূমিকা।
সোমবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-চীন শাসন অভিজ্ঞতা বিনিময়: দ্বিতীয় রাউন্ডটেবিল’-এর ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড রিজিওনাল চেঞ্জেস অ্যান্ড দেয়ার ইমপ্যাক্ট অন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেশনে তিনি এ বিষয়ে দেওয়া বিশেষ বক্তব্যে এ কথা বলেন। এ ছাড়াও তিনি এ বিষয়ে পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থিতদের সামনে তুলেন ধরেন নিজের মতামত।
ড. ইয়ে ইউ উল্লেখ করেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল প্রযুক্তি নতুন বিশ্বায়নের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। তবে, অর্থনীতির এই অগ্রগতির বিপরীতে বৈশ্বিক রাজনীতিতে বিশ্বায়নবিরোধী ভাবধারা ও দক্ষিণপন্থী পপুলিজম বাড়ছে। ফলে বৈশ্বিক রাজনৈতিক অর্থনীতিতে এক ধরনের রূপান্তর দেখা যাচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন দেশ নিজেদের শিল্পনীতি জোরদারে তীব্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতার ফলে বৈশ্বিক মূলধন কেবল সংকটপূর্ণ খনিজ পদার্থ-ভিত্তিকখাতে ঘনীভূত হচ্ছে। ফলে, বাংলাদেশের মতো পোশাকশিল্প-ভিত্তিক দেশগুলোর জন্য সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক উন্নয়ন সহায়তা আকর্ষণ করাটা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।
তবে, চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি বৈশ্বিক এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের জন্য সুযোগও দেখছেন ড. ইয়ে ইউ। তিনি জানান, ২১ শতক হলো এশিয়ার শতক এবং এশিয়ায় আঞ্চলিক সাপ্লাই চেইন প্রসারিত হচ্ছে। বাংলাদেশ এই আঞ্চলিক সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিখাতে রূপান্তরের সুযোগ নিয়ে লাভবান হতে পারে।
চীনের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ড. ইয়ে ইউ জানান, চীন বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদার। ঐতিহ্যগত বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক যেমন- বিশ্বব্যাংক, এডিবি এবং নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোয় চীন ও বাংলাদেশ উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে, ঋণের ক্ষেত্রে উচ্চ সুদের মার্কিন ডলারের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে ইউয়ান বা বিকল্প মুদ্রায় অর্থায়নের সুযোগ খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেন তিনি।
এ সময় ড. ইয়ে জোর দিয়ে বলেন, ‘এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছানো যাবে, তা সম্পূর্ণ বাংলাদেশের নিজস্ব কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।‘
তথ্য ও ছবি: সিএমজি বাংলা





















