নীলফামারীতে সাপের কামড়ে যুবকের মৃত্যু, ঝাড়ফুঁক দিয়ে জীবিত করার অবাস্তব চেষ্টা - Mati News
Saturday, August 15

নীলফামারীতে সাপের কামড়ে যুবকের মৃত্যু, ঝাড়ফুঁক দিয়ে জীবিত করার অবাস্তব চেষ্টা

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সাপের কামড়ে মৃত এক যুবককে তন্ত্রমন্ত্র ও ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে জীবিত করার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। বড়ভিটা ইউনিয়নের জুরাবান্ধা মালিপাড়া গ্রামের বিপুল রায়ের ছেলে বিজয় রায় (২০) সাপের কামড়ে মারা যাওয়ার পর তার আত্মীয়স্বজনরা এই অদ্ভুত উদ্যোগ নেন। শুক্রবার সকালে হাসপাতাল থেকে মরদেহ বাড়িতে আনার পর ওঝা ডেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে ঝাড়ফুঁক। স্থানীয়দের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, লাশের বিষ নামাতে সাপ এসেছে, যা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে শত শত উৎসুক জনতা ভিড় করেন। তাদের ধারণা ছিল, টিভির পর্দার মতো বাস্তবেও সর্প দংশনে মৃত ব্যক্তি ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে জীবিত হয়ে উঠবে।

চিকিৎসকের মৃত ঘোষণার পরও ওই যুবকের লাশ তন্ত্রমন্ত্র ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে জীবিত করা যাবে, সে বিশ্বাসে তার লাশ ২ ঘণ্টাব্যাপী ওঝা দিয়ে তন্ত্রমন্ত্র পড়া ও ঝাড়ফুঁক করান আত্মীয়স্বজনরা। এ ঘটনাটি মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়লে রীতিমতো চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দূরদূরান্ত থেকে আসা উৎসুক জনতা জানান, সিনেমা বা টিভির পর্দায় দেখেছি সাপে কেটে মৃত্যু ব্যক্তিকে ঝাড়ফুঁক দিয়ে জীবিত করা হয়। এ ঘটনা শুনে নিজ চোখে দেখতে এখানে ছুটে এসেছি। তবে টিভির পর্দার অভিনয় আর বাস্তব যে এক নয়, তা এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো।

বিজয় রায় সম্প্রতি মনসার গানের মঞ্চে সাপ নিয়ে খেলা প্রদর্শন করেছিলেন। খেলা শেষে সাপটি বাক্সে রাখার সময় ওই যুবককে সাপ কামড় দেয়। রাতে বাড়িতে ফেরার পর তীব্র ব্যথা অনুভব করলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়। বিজয়ের বাবা বিপুল রায় বলেন, ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন। তবে মরদেহ বাড়িতে আনার পর আমাদের মনে হলো, তন্ত্রমন্ত্র দিয়ে ঝাড়ফুঁক করলে হয়তো বিজয় প্রাণ ফিরে পাবে। সে আশা থেকেই ঝাড়ফুঁক করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে ঝাড়ফুঁকে কাজ না হওয়ায় পরে দাহ্য কার্য সম্পন্ন করা হয়।

এদিকে একই দিনে বাহাগিলী ইউনিয়নের নয়ানখাল বৈদ্যপাড়া এলাকার আব্দুর রহিমের স্কুল পড়ুয়া মেয়ে রোহানা আক্তার রুনাকে (১০) ঘুমন্ত অবস্থায় সাপে কামড় দেয়। তীব্র ব্যথা অনুভব হলে চিৎকার দিলে পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। সাপের কামড়ে একদিনে পৃথক স্থানে দুইজনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের মধ্যে কুসংস্কারের প্রভাব এখনো যে কতটা প্রবল, এই ঘটনা তারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেব বলেন, অসেচতনার কারণেই তারা তন্ত্রমন্ত্র দিয়ে মৃত যুবককে জীবিতের চেষ্টা করেছে। কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর গফুর জানান, সাপের কামড়ে পৃথক স্থানে দুইজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। তিনি আরও বলেন, ঝাড়ফুঁক দিয়ে জীবিত করার চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক। অনেক মানুষ এখনো তন্ত্রমন্ত্র বিশ্বাস করে, যা জীবন সংশয়ের কারণ হতে পারে। এ ধরনের কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধারণা সম্পর্কে সকলকে সচেতন করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *