প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়নে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়, এরপর কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি - Mati News
Thursday, October 29

প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়নে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়, এরপর কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাথমিক শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। এ সময়ের মধ্যে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে শিক্ষকসমাজের সঙ্গে আলোচনা করে আরও জোরালো ও ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

গত ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির ভার্চ্যুয়াল সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড উন্নীতকরণ, উচ্চতর গ্রেডসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন, প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি এবং শিক্ষকদের অন্যান্য বৈষম্য দূরীকরণসহ বিভিন্ন দাবি দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। এতে শিক্ষকসমাজের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ বাড়ছে।

সমিতির দাবি, ২০২৫ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি ও শাহবাগে কলম সমর্পণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড হামলায় দুই শতাধিক শিক্ষক আহত হন। একই ঘটনায় সহকারী শিক্ষিকা ফাতেমা আক্তারের মৃত্যুর কথাও উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। পরে ১০ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষকদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিশ্রুত দাবিগুলোর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ সমিতির।

সংগঠনটি জানিয়েছে, সরকারের আশ্বাসকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে দাবিগুলো তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ ছাড়া রিট পিটিশন ৭৩/২০২৩-এর রায়ের আলোকে সারাদেশে দ্রুত পদোন্নতি কার্যকর এবং প্রধান শিক্ষকদের বদলি চালুর দাবি জানাবে সমিতি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নিহত সহকারী শিক্ষিকা ফাতেমা আক্তারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো, তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল আয়োজন এবং আহত শিক্ষকদের প্রতি সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবে আগামী ৮ নভেম্বর সারাদেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিগত হিসাবের ছবি কালো করার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এদিন চাঁদপুর জেলা ও মতলব উত্তর উপজেলা কমিটির উদ্যোগে ফাতেমা আক্তারের কবর জিয়ারত এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করা হবে।

একই সঙ্গে ৮ নভেম্বরকে ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষক দিবস’ ঘোষণার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সংবাদমাধ্যমে সমন্বিত প্রচার চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।

নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে বিভাগীয় পর্যায়ে ধারাবাহিক ভার্চ্যুয়াল সভা আয়োজনের পাশাপাশি লেখালেখি, আলোচনা ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শিক্ষকদের দাবিগুলোর যৌক্তিকতা তুলে ধরে জনমত গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে সমিতির।

বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বলেছে, শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষ আন্তরিক উদ্যোগ নিলে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বৈষম্য নিরসন এবং তাঁদের পেশাগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা সংগঠনটির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *