কওমি মাদরাসার পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে শাপলা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস - Mati News
Thursday, September 3

কওমি মাদরাসার পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে শাপলা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দুটি অধ্যায়—২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান—এবার কওমি মাদরাসার পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে। কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ’ (বেফাক) এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আগামী শিক্ষাবর্ষের সিলেবাসেই এই ইতিহাস যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে আলেম, মাদরাসা শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের চালানো নির্মম নির্যাতনের ঘটনাকে অনেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সূচনা হিসেবে দেখেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় শহীদ ও নিখোঁজের সংখ্যা ৬১ জন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া গণঅভ্যুত্থানে ১৪ শতাধিক মানুষ শহীদ হন।

শাপলা স্মৃতি সংসদ, সাধারণ আলেম সমাজ এবং ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে এই ইতিহাস পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানানো হচ্ছিল। শাপলা স্মৃতি সংসদ ২০১৩ সালের ঘটনাকে ‘শাপলা গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে এর নিরপেক্ষ ও প্রামাণ্য ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান জানায়। পাশাপাশি প্রতি বছর মে মাসে মাদরাসাগুলোতে স্মরণানুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিলের দাবিও ছিল তাদের। ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে শাপলা চত্বর, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীবান্ধব ভাষায় উপস্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এছাড়া নির্যাতিত আলেমদের জীবনসংগ্রাম নিয়েও পৃথক পাঠ অন্তর্ভুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি বেফাকের লেখক ও সম্পাদনা পরিষদ এ বিষয়ে একটি বৈঠক করে। পরিষদের সদস্য মুফতি কাজী হানিফ জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষের সিলেবাসে এসব ঐতিহাসিক ঘটনা যুক্ত করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সিলেবাসে অন্তর্ভুক্তির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ মাহদি আযহারী মনে করেন, এই ইতিহাস পাঠ্যক্রমে না থাকলে তা বর্তমান প্রজন্মের আলেমদের জন্য বড় ক্ষতি বয়ে আনবে। তিনি সতর্ক করেন যে, সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে আরোপিত বয়ান যেন ইতিহাসের একমাত্র উৎস হয়ে না দাঁড়ায়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের শাপলা সেকশনের গবেষক মুহিম মাহফুজ বলেন, শাপলা ও জুলাইয়ের ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়, বরং এটি একই ইতিহাসের শুরু ও শেষ। ২০১৩ সালের আন্দোলন ছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রথম গণআন্দোলন, যার চূড়ান্ত সাফল্য আসে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে। পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে মাদরাসাগুলোতেও এই বিষয়ে গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে ফ্যাসিবাদী সরকারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শাপলা থেকে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস বেফাকের সিলেবাসে যুক্ত করার জন্য বিভিন্ন সময়ে স্মারকলিপি দেয় শাপলা স্মৃতি সংসদ, সাধারণ আলেম সমাজ ও ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সসহ নানা সংগঠন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি প্রতি বছর মে মাসে দেশের সব কওমি মাদরাসায় ঘটনাটি স্মরণে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও স্মরণানুষ্ঠান আয়োজনের দাবি জানানো হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কারণ সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালিয়ে কোনো অপশক্তির আরোপিত বয়ানই একসময় ইতিহাসের একমাত্র বয়ান হয়ে উঠতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার মধ্য দিয়ে শাপলা ও জুলাই নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ভবিষ্যতে মাদরাসায়ও গবেষণা হবে বলেই আমাদের আশাবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *