সন্তান মাদকাসক্ত কি না বুঝবেন কীভাবে? অভিভাবকদের জন্য জরুরি কিছু লক্ষণ - Mati News
Tuesday, August 25

সন্তান মাদকাসক্ত কি না বুঝবেন কীভাবে? অভিভাবকদের জন্য জরুরি কিছু লক্ষণ

পরিবারের অগোচরে কিশোর-তরুণদের মাদক গ্রহণের প্রবণতা বর্তমানে একটি উদ্বেগের বিষয়। অনেক সময় অভিভাবকরা সন্তানের ছোটখাটো পরিবর্তনের দিকে খেয়াল করেন না, যা পরবর্তীতে বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী শারমিন হক এ বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে নজরদারি করতে গিয়ে যেন সন্তান নিজেকে অবরুদ্ধ মনে না করে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

উঠতি বয়সে হরমোনজনিত শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের কারণে সন্তানের আচরণে স্বাভাবিক কিছু পরিবর্তন আসা অস্বাভাবিক নয়। এই সময় তারা আবেগের দিক থেকে বেশ অস্থির থাকে। তাই যেকোনো ছোটখাটো অস্বাভাবিকতা দেখেই তাকে সন্দেহ করা উচিত নয়। যদি বেশ কিছু লক্ষণ দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী হয়, তবেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, একাডেমিক চাপ, মানসিক পীড়া বা পারিপার্শ্বিক কারণেও এমন পরিবর্তন হতে পারে।

মাদকাসক্তির প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে আন্তরিকতা হারিয়ে ফেলা। সন্তান হুট করে বদমেজাজি, মারমুখী বা অতিরিক্ত জেদি হয়ে উঠতে পারে। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও পোশাকের ব্যাপারে উদাসীনতা, পড়ালেখায় অমনোযোগ এবং দৈনন্দিন কাজে অনীহা দেখা দেওয়াও এর লক্ষণ। এছাড়া, নির্দিষ্ট সময়ে বাইরে যাওয়ার জন্য অস্থিরতা, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অতিরিক্ত গোপনীয়তা এবং ঘরে প্রবেশের সময় দরজায় নক করলে বা কেউ ঘরে ঢুকলে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখানোও সন্দেহের উদ্রেক করতে পারে।

আর্থিক দিক থেকেও কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। সন্তান স্বাভাবিক হাতখরচের চেয়ে বেশি অর্থ দাবি করতে পারে এবং চাহিদা পূরণ না হলে অস্বাভাবিক আচরণ করতে পারে। অনেক সময় অভিভাবকের গচ্ছিত অর্থ বা বাড়ির জিনিসপত্র হারিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। সন্তানের ঘরে অস্বাভাবিক ঘ্রাণ পাওয়া কিংবা সন্দেহজনক এলাকায় তার উপস্থিতি বা মাদকাসক্ত বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা করার বিষয়টিও অভিভাবকদের সতর্ক হওয়ার সংকেত দেয়।

সন্তান মাদক নিচ্ছে বলে সন্দেহ হলে তাকে ধমক, অপমান বা মারধর করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তাকে ঘরবন্দী করে রাখলে হিতে বিপরীত হতে পারে, এমনকি সে আত্মহত্যার মতো চরম পথও বেছে নিতে পারে। এর পরিবর্তে তার প্রতি আরও যত্নশীল হতে হবে এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। তার জীবনের কোনো সমস্যা আছে কি না, তা জানার চেষ্টা করুন।

সরাসরি মাদক নিয়ে প্রশ্ন করলে সন্তান অস্বীকার করতে পারে। তাই শারীরিক পরীক্ষার কথা বলে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া ভালো। চিকিৎসকের সঙ্গে আগে থেকেই কথা বলে রাখা উচিত, যাতে তিনি কৌশলী ভূমিকা নিতে পারেন। নমুনা সংগ্রহের সময় সন্তানের সঙ্গে থাকুন এবং সে যেন সঠিকভাবে প্রস্র প্রস্রাব বা রক্তের নমুনা যেন সঠিকভাবে দেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করুন। আসক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মনোবিদের সহায়তা নিয়ে চিকিৎসা শুরু করা জরুরি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরিবারের নজর এড়িয়ে মাদক গ্রহণ করে, এমন কিশোর-তরুণের সংখ্যা নেহাত কম নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আবেগের দিক থেকে ভীষণ টালমাটাল একটা সময় পার করছে সে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অতিরিক্ত বিরক্তি, জেদ বা রাগ দেখা দিতে পারে তার মধ্যে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বড়দের সঙ্গে বেয়াদবিও করে ফেলতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে যাচ্ছে, কখন ফিরতে পারে—এ ধরনের প্রশ্নে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একেক মাদকের একেক ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে শরীরে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রায়ই হারিয়ে যেতে পারে বাড়ির নানান জিনিস। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার জীবনে কোথাও কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, জানতে চান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *