শিকার মৌসুমের প্রস্তুতি: কাতারের সুক ওয়াকিফে বাজপাখির বিক্রি ৬০ শতাংশ বেড়েছে - Mati News
Friday, September 4

শিকার মৌসুমের প্রস্তুতি: কাতারের সুক ওয়াকিফে বাজপাখির বিক্রি ৬০ শতাংশ বেড়েছে

কাতারের ঐতিহ্যবাহী সুক ওয়াকিফ বাজারে এখন বাজপাখি বা ফ্যালকন কেনাবেচার ধুম পড়েছে। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিযায়ী পাখি শিকারের মৌসুম ঘোষণা করার পর থেকেই বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, গত সময়ের তুলনায় বর্তমানে বাজপাখির বিক্রি প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। কাতার ছাড়াও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্রেতারা শিকার মৌসুমের প্রস্তুতি হিসেবে এখন থেকেই পাখি সংগ্রহ করছেন। অনেকে সরাসরি দোকানে এসে কেনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অর্ডার দিচ্ছেন, যা ব্যবসায়ীরা নিয়ম মেনে অন্য দেশে পৌঁছে দিচ্ছেন।

বাজারে বিভিন্ন জাতের বাজপাখির দাম তাদের ধরন ও গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। শাহিন ফ্যালকনের দাম ৩০ হাজার রিয়াল এবং গারফ্যালকনের দাম ২০ হাজার রিয়াল থেকে শুরু হয়। এছাড়া গার-শাহিন হাইব্রিড ফ্যালকনের দাম অন্তত ৫০ হাজার রিয়াল থেকে শুরু। সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে ওয়াকরি বা ল্যানার ফ্যালকন ২ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার রিয়ালের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া সুদানি ওয়াকরি ফ্যালকনের দাম প্রায় ২ হাজার রিয়াল, ব্রিটিশ গারমুশা ফ্যালকন ৪ হাজার রিয়াল এবং স্প্যানিশ গারফ্যালকনের দাম ১০ হাজার রিয়াল থেকে শুরু হচ্ছে।

বাজপাখির পাশাপাশি শিকারের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের চাহিদাও তুঙ্গে। সাধারণ মানের হাতমোজা ৫০ রিয়ালে পাওয়া গেলেও ডাচ মডেলের আমদানিকৃত হাতমোজার দাম ৫০০ রিয়াল পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া হুড ৩০ থেকে ১৫০ রিয়াল, বহন করার বাক্স ৬০ থেকে ৭০ রিয়াল এবং জার্মান প্রযুক্তির উন্নত বাইনোকুলারের দাম ২ হাজার ৮০০ রিয়াল থেকে শুরু হয়। ব্যবসায়ীদের মতে, নতুন কেনা বাজপাখিকে শিকারের উপযোগী করে তোলার জন্য সাধারণত ১৫ দিন বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়, যা পাখির পারফরম্যান্সের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তবে বাজারে আগে থেকেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাখিও পাওয়া যাচ্ছে।

আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে ইরান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়া থেকে বাজপাখির নতুন চালান আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই নতুন চালান আসার পর বাজারের এই চাঙ্গা ভাব আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *