ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্রীয় সফরে দিল্লি যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। সফরের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে দুই দেশই কাজ করছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়নি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে দুই দিনের এই সফরের জন্য ভারত ২০ ও ২১ আগস্টের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে এই তারিখের পরিবর্তে অন্য কোনো সুবিধাজনক সময়ে সফর আয়োজনের বিষয়টিও ঢাকা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
আগস্টের তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহের মধ্যে সফরের সময় নির্ধারণে দুই দেশই বিভিন্ন তারিখ নিয়ে পর্যালোচনা করছে। ভারতের দেওয়া ২০ ও ২১ আগস্টের প্রস্তাবকে সামনে রেখে গত সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তবে ২০ আগস্ট দেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও পরবর্তী শপথ গ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি থাকায় ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ২২ ও ২৩ আগস্ট সফরটি আয়োজন করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক শেষে দেশটির হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকায় ফিরেছেন। দুই দেশের মধ্যে সফরের তারিখ নিয়ে আলোচনা চললেও প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফরের সূচি চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি একটি ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির ওপর বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সংবেদনশীল বিষয়গুলোর সমাধানেও সরকার জোর দিচ্ছে বলে জানা গেছে। ভারতও বিভিন্ন ইস্যুতে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়াতে আগ্রহী।
বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ইঙ্গিত অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন দিল্লি সফরে এই বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। উভয় দেশই পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে খোলামেলা আলোচনা ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করছে, যা এই সফরের মূল এজেন্ডা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।










