ইরানকে ‘যেকোনো ধরনের সহায়তার লাইফলাইন’ প্রদানকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় ছয় মাস আগে ইসরাইলের সঙ্গে শুরু হওয়া যুদ্ধে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা ইরান প্রদর্শন করায় বৈশ্বিক বাজারেও এর বড় প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন সমাধানের পথ খুঁজলেও পরিস্থিতি এখনও জটিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানিয়েছেন, কোনো দেশ যদি তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থাকে ইরানকে সহায়তার সুযোগ দেয়, তবে সেই দেশ ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হবে। তবে ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে প্রায় ৫০ বছর ধরে ইরান ধারাবাহিকভাবে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে। ট্রাম্পের এই হুমকি মার্কিন মিত্র দেশগুলোর জন্যও প্রযোজ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ইরান থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সমুদ্রে পড়ার দাবি করার পর, দেশটি ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। যদিও ইরান এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে, বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান কেপলারের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে সমুদ্রপথে রপ্তানি হওয়া তেলের ৮০ শতাংশের বেশি চীন কিনে থাকে। চীনের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলে পাল্টা প্রতিশোধের ঝুঁকিও রয়েছে, কারণ চীন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় রপ্তানিকারক দেশ।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্সকে জানিয়েছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের জন্য প্রস্তুত থাকলেও সামরিক চাপ বা নিষেধাজ্ঞা তাদের সংকল্প ভাঙতে পারবে না। তবে ট্রাম্প মঙ্গলবার দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না। এর ঠিক একদিন আগে ট্রাম্পের জামাই ও বিশেষ দূত জারেড কুশনার জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশ জোরালো পর্যায়ে রয়েছে।
ট্রাম্প বর্তমানে ইরানের মজুত থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ২০১৮ সালে একতরফাভাবে প্রত্যাহার করা চুক্তির পরিবর্তে তিনি ইরানের পারমাণবিক জ্বালানি ও গবেষণা কর্মসূচির ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে নতুন একটি চুক্তি করতে চান। উল্লেখ্য, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) স্বাক্ষরকারী দেশ এবং তারা বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্যে নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দ্রুত উপসাগরীয় বিভিন্ন অঞ্চলকে জড়িয়ে ফেলেছে এই যুদ্ধ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের বাণিজ্যিকভাবে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যেত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুদ্ধ অবসানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলকে যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এপ্রিলে এবং জুনে দু’বার যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা দেয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরই মধ্যে ইসরাইল যুদ্ধ থেকে অনেকটাই সরে এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বুধবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় ট্রাম্প ‘অভূতপূর্ব মাত্রায় অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতার’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া হুমকি ও ঘোষণাগুলো সব সময় বিস্তারিত নীতিতে রূপ নেয় না কিংবা ঘোষণায় যেভাবে বলা হয়, সেভাবে বাস্তবায়িতও হয় না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার ঘোষিত হুমকির আওতায় এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোও পড়তে পারে, যারা ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা মধ্যস্থতায় সহায়তা করেছে।




















