নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যা: কৈলাস যাত্রায় গিয়ে নিখোঁজ শতাধিক ভারতীয় তীর্থযাত্রী - Mati News
Thursday, August 27

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যা: কৈলাস যাত্রায় গিয়ে নিখোঁজ শতাধিক ভারতীয় তীর্থযাত্রী

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে শতাধিক ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁরা মূলত কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রায় অংশ নিতে নেপালের ভূখণ্ড হয়ে তিব্বতের দিকে যাত্রা করেছিলেন। হিমালয়ের অত্যন্ত দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে প্রতিবছর হাজারো মানুষ এই ধর্মীয় যাত্রায় অংশ নেন।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে তিব্বতের কৈলাস পর্বত দেবতা শিবের আবাসস্থল হিসেবে অত্যন্ত পবিত্র। পাশাপাশি মানস সরোবরও হিন্দুদের অন্যতম প্রধান তীর্থস্থান। আধ্যাত্মিক শুদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে ভক্তরা সেখানে ধর্মীয় আচার পালন করতে যান। এছাড়া বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছেও এই স্থানগুলোর বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। অনেকের কাছেই জীবনে অন্তত একবার এই তীর্থযাত্রা সম্পন্ন করা একটি বড় স্বপ্ন।

তবে এই যাত্রা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তীর্থযাত্রীরা সাধারণত প্রথমে নেপালে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে পাহাড়ি পথ ধরে চীন-নিয়ন্ত্রিত তিব্বত অঞ্চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বর্ষা মৌসুমে এই পথ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে নেপালের রাসুয়া এলাকাটি এই যাত্রার অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ। বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় রাসুয়া সীমান্তে অবস্থিত মিতেরি সেতুটি ভেসে গেছে এবং বেশ কিছু সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন্যায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ফাইবার অপটিক যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় তীর্থযাত্রীদের অবস্থান শনাক্ত করা এবং তাঁদের পরিবারের কাছে তথ্য পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক তীর্থযাত্রী সীমান্ত পার হওয়ার অপেক্ষায় নেপালের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছিলেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তাঁদের পরিবারের সদস্য ও ভ্রমণ আয়োজকেরা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

হিমালয়ের এই অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির ফলে হিমবাহের বরফ ও ভূমিধস থেকে সৃষ্ট পানির তীব্র স্রোত নদী উপত্যকায় নেমে আসে, যা সেতু ও সড়ক ধ্বংসের মূল কারণ। উদ্ধারকারী দলগুলো নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তবে দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস ও দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যাত্রা করা এসব তীর্থযাত্রীর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *