সাকিব সিকান্দার
চীনের উহান বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাকিস্তানের ইউনিভার্সিটি অব পাঞ্জাবের যৌথ গবেষণায় ধানের এক সংকর প্রজাতির উদ্ভাবন করা হয়েছে। পাকিস্তানে ব্যাপক আকারে বাণিজ্যিক ব্যবহারের দিকে এগোচ্ছে নতুন প্রজাতির এই ধান।
ইউনিভার্সিটি অব পাঞ্জাবের তথ্যমতে, প্রথমবারের মতো হোংলিয়ান-ধরনের সংকর প্রজাতির এই ধানের উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে পাকিস্তানে, যা পিইউ-৭৮৬ নামে নিবন্ধিত হয়েছে। গত মার্চে বাণিজ্যিকীকরণের আগে চারটি প্রদেশে ধানটির পরীক্ষামূলক উৎপাদন হয়েছে। এর মাধ্যমে গবেষণাগার থেকে নয়া এই ধান বাজারে প্রবেশ করবে।
প্রকল্পের প্রধান গবেষক পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহাম্মদ আশফাক বলেন, ‘পিইউ-৭৮৬ উদ্ভাবনের আগে পাকিস্তানের ধান উৎপাদন খাত স্বল্প উৎপাদনশীলতা, কীটপতঙ্গের সংবেদনশীলতা, জলবায়ুর চাপ এবং রপ্তানি প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধতা সংক্রান্ত নানা জটিলতায় ধুঁকছিল। কৃষকরাও ফসলের ভারসাম্যহীন ও উচ্চমাত্রার উৎপাদন খরচের মুখোমুখি হচ্ছিলেন, যা এই খাতের সম্ভাবনাকে ক্ষীণ করে রেখেছিল।’
‘পিইউ-৭৮৬ উৎপাদনশীলতার বিচারে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ, এক একর জমিতে ৫ দশমিক ৬ মেট্রিক টন পর্যন্ত ফসল হতে পারে, যেখানে দেশের পাশাপাশি রপ্তানি বাজারেও ভোগ্যপণ্য হিসেবে মানসম্পন্ন শস্যের তকমা পাবে’, যোগ করেন অধ্যাপক আশফাক। তিনি আরো বলেন, ‘এইসব পার্থক্য কেবল সংখ্যাতেই সীমাবদ্ধ নেই, স্বাস্থ্যকর এই শস্যে ঘটবে পূর্ণ মঞ্জুরী এবং এতে শস্যের গুণগত মান হবে আরো ভালো।’
দুই দেশের এই উন্নয়নমূলক অংশীদারত্বের সূচনা ঘটে ২০১৮ সালে, যখন কলেজ অব লাইফ সায়েন্সেসের অধ্যাপক চু রেনশানের নেতৃত্বে উহান বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দলের সঙ্গে কাজ শুরু করে ইউনিভার্সিটি অব পাঞ্জাব। ২০২১ সালে হুবেইয়ের হুয়াংগ্যাংয়েতে লুওটিয়ান-ভিত্তিক গবেষণাগারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই গবেষণাগার দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। তখন থেকেই প্রকল্পটি ব্রিডিং, আঞ্চলিক আবহে পরীক্ষা, নিবন্ধন এবং বাণিজ্যিকীকরণের পথে এগিয়েছে।
চীনের দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার ঐতিহ্যগত পথ ধরেই পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে গবেষণাগারে ধানটির উদ্ভাবন ঘটেছে। চু বলেন, ‘উহান বিশ্ববিদ্যালয়ে যুগেরও বেশি সময় ব্যয়ে হোংলিয়ান-ধরনের এই সংকর প্রজাতির ধানের গবেষণাকে এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই প্রজাতি তার অভিযোজন যোগ্যতা, শক্ত প্রতিরোধী ক্ষমতা, স্থিতিশীল বীজ উৎপাদন এবং নাইট্রোজেন সারের কার্যকর ব্যবহারে উপযোগিতার জন্য সুপরিচিত। পাশাপাশি উচ্চ উৎপাদনশীল শস্যের গুণগতমানও খুবই ভালো।
‘এই ধান চীনের ইয়াংজি নদীর অববাহিকায় ব্যাপকভাবে চাষ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই ধান সমৃদ্ধির পথ দেখিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়ায় এবং আফ্রিকায়’, যোগ করেন চু।
সূত্র: সিএমজি





















