রংপুর নগরের কামালকাছনা এলাকার একটি তিনতলা বাড়ি থেকে গত শনিবার রাতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১৩) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এই চারজনকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার রাতে পাশের একটি ভবন দিয়ে গণপতির নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে ওঠেন মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস। তারা সেখানে ইয়াবা সেবন করছিলেন। শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গেলে তাদের চিনে ফেলেন এবং মাদক সেবনে বাধা দেন। পরিচয় ফাঁস হওয়ার ভয়েই তারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশের তদন্ত ও ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, অপরাধীরা যেভাবে পুরো ঘটনাটি ঘটিয়েছে
- আসামিরা প্রথমে পাশের একটি বাড়িতে ইয়াবা সেবন করেন, পরে ছাদ টপকে গণপতির বাড়ির ছাদে গিয়ে পুনরায় মাদক সেবন শুরু করেন।
- গণপতি চক্রবর্তী তাদের চিনে ফেলায় এবং বাধা দেওয়ায় গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়।
- ছাদে ওঠার সময় স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তীকেও একই কায়দায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
- মেয়ে আগামী চক্রবর্তীকে হত্যার সময় খুনিরা রশি দিয়ে তার গলা ও মুখ প্যাঁচিয়ে ফেলে।
- সবশেষে ঘরে ঘুমিয়ে থাকা ১২ বছরের প্রীয়ম চক্রবর্তীকেও বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
- হত্যার পর খুনিরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে না গিয়ে ওই বাড়িতেই অবস্থান করে এবং সকালের দিকে ফ্রিজ থেকে খাবার খেয়ে বেরিয়ে যায়।
- তদন্তের সময় পুলিশ লক্ষ্য করে যে, বাড়ি থেকে টেলিভিশন, ল্যাপটপ বা মুঠোফোনের মতো কোনো গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র খোয়া যায়নি, যা থেকে পুলিশের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
পুলিশ মাছুয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে রবিবার ভোরে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে পুলিশের এই দাবি নিয়ে নিহত শিক্ষকের স্বজনরা গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তীর জামাতা বিশ্বজিৎ রায় বলেন, পুলিশের ভাষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। দুই তরুণ মিলে চারজন মানুষকে এভাবে হত্যা করতে পারে, তা বিশ্বাস করা কঠিন। গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা কানু দাসও তার ছেলের এমন কর্মকাণ্ডে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন গণপতি চক্রবর্তী। তার মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। বর্তমানে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রথম দিকে হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে পুলিশের ধারণা ছিল, এটা ডাকাতি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘রংপুরে এক পরিবারের চারজনকে হত্যা: খুনের কারণ নিয়ে প্রশ্ন, সন্দেহ’ শিরোনামে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গতকাল ভোরে দুজনকে আটক করার কথা জানায় পুলিশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে হত্যার ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে ঘরে জিনিসপত্র ছড়িয়ে রেখে ডাকাতির নাটক সাজানোর চেষ্টা করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেখতে পেয়ে গণপতি বাধা দিলে তাঁকে হত্যা করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গণপতির পরিবারের সঙ্গে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের আগে থেকেই পরিচয় ছিল উল্লেখ করে পুলিশ কমিশনার বলেন, পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় দুজন মিলে একে একে পরিবারটির চার সদস্যকেই হত্যা করেন।




















