২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ - Mati News
Friday, September 4

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যকে কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের (আইএসডিবি) অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকার ও ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের মধ্যে ‘বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলীয় শোধনাগারের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের জন্য ১,০০৪.২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মিজানুর রহমান এবং আইএসডিবি গ্রুপের পক্ষে সংস্থাটির ডিরেক্টর জেনারেল (কান্ট্রি প্রোগ্রামস) আনাসি আইসামি চুক্তিতে সই করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসের উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার চলতি দশকে রপ্তানি, বিনিয়োগ এবং আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করতে চায়। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে একটি নতুন সরকার এসেছে এবং এর নতুন দিকনির্দেশনা রয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়া। এটি কোনো স্লোগান নয়, বরং একটি সুচিন্তিত পরিকল্পনা।

তারেক রহমান জানান, তার সরকারের লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি উৎপাদনকেন্দ্র এবং এই অঞ্চলের প্রবেশদ্বারে পরিণত করা। তিনি বলেন, পোশাকশিল্পের সাফল্যের পর এখন ইলেকট্রনিকস, ওষুধশিল্প, হালকা প্রকৌশল এবং সবুজ শিল্পের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির নতুন গল্প লিখতে চায় সরকার। এমন কারখানা ও কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে, যা মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করবে।

সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের পাশাপাশি হেলথ কার্ড প্রবর্তনের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অংশীদারত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রযুক্তিগত রূপান্তরের মতো চ্যালেঞ্জ কোনো দেশ একা মোকাবিলা করতে পারে না।

আইএসডিবি’র সঙ্গে নতুন ধরনের অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সহযোগিতা আরও উদ্ভাবনী ও ফলাফলভিত্তিক হবে। তিনি আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. আল জাসেরকে তার পুনর্নির্বাচনের জন্য অভিনন্দন জানান এবং গত পাঁচ বছরে তার নেতৃত্বে ব্যাংকের সাফল্যের প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দ্বিতীয় মেয়াদেও তিনি বড় সাফল্য বয়ে আনবেন।

চুক্তিটিকে একটি মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি কেবল একটি লেনদেন নয়, বরং বাংলাদেশের প্রতি আইএসডিবি’র আস্থার বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে এই ব্যাংক বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং আমরা এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হতে পেরে গর্বিত। এটি কেবল অর্থায়নের বিষয় নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর সদস্য হিসেবে আস্থা ও সংহতির প্রতীক।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য স্বল্প খরচে অর্থায়নের মাধ্যম হিসেবে ইসলামিক কনসেশনাল ফান্ড (আইসিএফ) প্রতিষ্ঠায় ড. আল জাসেরের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বাংলাদেশ এই তহবিল থেকে সুবিধা গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এছাড়া, সম্ভাব্য প্রকল্প চিহ্নিত করতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা ঢাকায় আইডিবি’র আঞ্চলিক হাবের সঙ্গে কাজ করছেন।

আইএসডিবি’র বৃহত্তর ভূমিকার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকটি সদস্য দেশগুলোর শক্তির জায়গাগুলোকে কাজে লাগিয়ে তাদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, কিছু দেশ জ্বালানি খাতে এগিয়ে আছে, আবার কেউ অবকাঠামোতে। ব্যাংকটি তাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করলে সদস্যরা একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে পারবে।

প্রকল্পটি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) বাস্তবায়ন করবে। এটি বাস্তবায়িত হলে বিপিসির পরিশোধন ক্ষমতা ১.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৪.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। এতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে, ইউরো-৫ মানসম্পন্ন পরিবেশবান্ধব পেট্রোলিয়াম তেল উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানিকৃত পরিশোধিত জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমবে।

চুক্তি স্বাক্ষর শেষে আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলোতে সহায়তা করার বিষয়ে তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আজকের এই চুক্তি প্রমাণ করে যে অংশীদারত্ব কী করতে পারে। এটি শুধু একটি জ্বালানি বিনিয়োগ নয়, বরং আমাদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সক্ষমতায় একটি বিনিয়োগ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চুক্তির অধীনে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থায়ন করবে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখন অংশীদারত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমাদের সরকার আপনার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।’’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশ সফর এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালীকরণে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ড। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আল জাসেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘‘আজ আপনার উপস্থিতি আমাদের মধ্যকার বন্ধনের দৃঢ়তারই পরিচায়ক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই উপলক্ষ্যটি অংশীদারত্ব, সংহতি, উদ্ভাবন এবং যৌথ সমৃদ্ধির প্রতি আমাদের যৌথ অঙ্গীকারকে নবায়ন করুক।’’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আইএসডিবি বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত বহুপাক্ষিক উন্নয়ন অংশীদার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিষ্ঠার পর থেকে অনুদান, প্রকল্প ঋণ, বাণিজ্য অর্থায়ন, বেসরকারি খাতে অর্থায়ন, রপ্তানি ঋণ নিশ্চয়তা ইত্যাদির মাধ্যমে ব্যাংকটি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিরন্তর সহায়তা দিয়ে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *