কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে চীনা ভাষা যুক্ত করা হবে: মাউশি মহাপরিচালক - Mati News
Monday, September 14

কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে চীনা ভাষা যুক্ত করা হবে: মাউশি মহাপরিচালক

চীনা ভাষাকে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু এবং ভাষা ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সঙ্গে চীনা ভাষা প্রশিক্ষণ যুক্ত করার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

শুক্রবার ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে প্রথম ‘চাইনিজ ক্যারেক্টার হিরোস’ চীনা টাইপিং প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনউদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ৪১ দফা নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু, ভাষা ল্যাব স্থাপন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং বৃত্তি কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চীনের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও সহজ করতে তরুণদের চীনা ভাষা শেখায় উৎসাহিত করা হচ্ছে।

মহাপরিচালক বলেন, ঢাকার রাজউক মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুল এবং ক্যাডেট ও ক্যান্টনমেন্ট মডেল স্কুলসহ প্রায় ২৫টি শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান চীনা ভাষা শেখানোর জন্য ইনস্টিটিউট গঠনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

চীনা ভাষার প্রশিক্ষক বাংলাদেশে মোতায়েনের বিষয়েও ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

দেশের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ট্রেড কোর্স বা ভোকেশনাল শিক্ষার সঙ্গে ‘তৃতীয় ভাষা ল্যাব’ স্থাপনের একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান অধ্যাপক খান মঈনউদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

তিনি বলেন, সাধারণ ধারার প্রায় ৬৪০টি স্কুলে ইতিমধ্যে কারিগরি শিক্ষা চালু রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে চীনা ভাষা প্রশিক্ষণ ও কারিগরি শিক্ষাকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া গেলে শিক্ষার্থীরা একই সঙ্গে ভাষাগত ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে।

তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে তাঁদের অবদান বাড়াতে সহায়ক হবে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে চীন সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। বিশেষ করে চীনা ভাষার প্রশিক্ষক সরবরাহ, ভাষা ল্যাবের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চীন সরকার, ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাস ও চীনা উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে চীনা ভাষা শিক্ষার সঙ্গে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে একীভূত করে এ উদ্যোগ সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষা উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট সচিবদের চীন সফরের বিষয়টিও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।

প্রথম ‘চাইনিজ ক্যারেক্টার হিরোস’ চীনা টাইপিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ইয়ুননান-কুইচৌ কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট (ক্লাসরুম) অ্যালায়েন্স। বাংলাদেশে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এ আয়োজনের আয়োজক।

অনুষ্ঠানে চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওফেং, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী এবং কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: সিএমজি

C:\Users\USER\Pictures\vlcsnap-2026-09-12-11h35m01s778.png

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *