ঢাকা, আগস্ট ২৪, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: চীনকে জানা ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ-চায়না অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওফেং। রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘নি হাও চায়না রাইটিং কম্পিটিশন ২০২৬’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
লি শাওফেং বলেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই চীনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাদের অনেকেই চীন ভ্রমণ করেছেন, সেখানে পড়াশোনা করেছেন কিংবা চীনা বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। তাই দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তিনি বলেন, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন অনেকটাই নির্ভর করছে দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ ও বোঝাপড়ার ওপর।এ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
চীন সম্পর্কে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ লেখার মাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন লি শাওফেং। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের লেখা চীনের জীবন, সমাজ, সংস্কৃতি ও উন্নয়নকে অন্যদের সামনে তুলে ধরার একটি জানালা হিসেবে কাজ করতে পারে।
তিনি বলেন, এসব লেখা শুধু চীনের অর্জন তুলে ধরবে না; বরং চীন কীভাবে উন্নয়নের বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছেছে, কী কারণে দেশটির উন্নয়ন প্রশংসনীয় সেসব বিষয়ও তুলে ধরা প্রয়োজন।
চীনকে তুলে ধরতে লেখার পাশাপাশি ছবি ও স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও তৈরিরও আহ্বান জানান এই চীনা কূটনীতিক। তার মতে, একটি ছবি বা ছোট ভিডিও আকারে ছোট হলেও তা মানুষের মধ্যে সত্যিকারের আবেগ তৈরি করতে পারে এবং যারা কখনো চীন ভ্রমণ করেননি, তাদের সামনে চীনের বাস্তব জীবন তুলে ধরতে পারে।
এ সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে চীন ও চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের গল্প নিয়ে স্বল্পদৈর্ঘ্য নাটক ও ভিডিও তৈরির একটি নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনার কথাও জানান লি শাওফেং। তরুণদের এ ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে চীনের উন্নয়ন এবং চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের নানা গল্প সাধারণ মানুষের কাছে আরও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা সম্ভব। প্রতিবছর এ ধরনের নতুন উদ্যোগ ও কর্মসূচি আয়োজনের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
বাংলাদেশ-চায়না অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের বিভিন্ন পেশা ও ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করে লি শাওফেং বলেন, চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন আরও জোরদারে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সামনে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে।
চীনের সঙ্গে যাদের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক বোঝাপড়া, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরও গভীর করার আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: সিএমজি

















