
‘মানবতার জন্য ন্যায়বিচার ও শান্তি’ প্রতিপাদ্যে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী গতকাল (সোমবার) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উদ্বোধন করা হয়েছে। টোকিও ট্রায়ালের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যৌথভাবে ঐতিহাসিক সত্য রক্ষার পাশাপাশি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ের অর্জনকে সমুন্নত রাখা ও যুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা বজার রাখার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে প্রদর্শনীটি।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু ছোং বলেন, টোকিও ট্রায়াল যুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে সুসংহত করেছিল, আন্তর্জাতিক ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারকে রক্ষা করেছিল এবং আন্তর্জাতিক আইনের শাসনের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করেছিল।
তিনি আরও বলেন, শান্তির বিরুদ্ধে যারা যুদ্ধ করেছিল, সভ্যতার বিরুদ্ধে বর্বরতা চালিয়েছিল এবং ন্যায়বিচারের বিরুদ্ধে অশুভ শক্তি হয়ে উঠেছিল; তাদের জন্য ওটা ছিল এক বিশাল বিচার, যা যুগান্তকারী রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক তাত্পর্য বহন করে।
ফু ছোংয়ের মতে, জাপানের উচিত ছিল টোকিও ট্রায়ালের চেতনাকে ধারণ করা, সামরিকতাবাদী আদর্শ থেকে নিজেকে শুদ্ধ করা এবং চিরকাল শান্তির পথ অনুসরণ করা। কিন্তু, দুর্ভাগ্যবশত, জাপানের ডানপন্থী শক্তিগুলো নানা কারণে টোকিও ট্রায়ালের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং এটিকে তাদের আগ্রাসনের ইতিহাস ঢাকার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে।
জাপান ক্রমান্বয়ে টোকিও ট্রায়ালস থেকে বিচ্যুত হচ্ছে এবং স্বঘোষিত ‘শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র’ পরিচয় থেকে আরও দূরে সরে যাচ্ছে বলেও জানান ফু ছোং।
তিনি বলেন, টোকিও ট্রায়ালের চেতনা সমুন্নত রাখার পাশাপাশি সামরিকবাদের নতুন রূপের উত্থানের বিরুদ্ধে সতর্ক থেকে যৌথভাবে যুদ্ধোত্তর ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে চীন সকল পক্ষকে আহ্বান জানায়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও আইন বিভাগের মহাপরিচালক ছি তা হাই, জাপানি আগ্রাসনকারীদের দ্বারা সংঘটিত নানচিং গণহত্যার শিকারদের স্মৃতিসৌধের মহাপরিচালক চৌ ফেং, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও আইন বিভাগের মহাপরিচালক এবং জাতিসংঘে উত্তর কোরিয়ার উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ভাষণ দেন।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘে স্পেন, নিকারাগুয়া এবং অন্যান্য দেশের স্থায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
চীন, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার বক্তারা উল্লেখ করেন, টোকিও ট্রায়াল কঠোর পদ্ধতি এবং অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে জাপানের আগ্রাসনমূলক অপরাধের জন্য একটি ন্যায়সঙ্গত বিচার নিশ্চিত করে শান্তি রক্ষার মহৎ আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করেছিল। তাদের মতে, ৮০ বছর পর টোকিও ট্রায়ালকে পুনরায় পর্যালোচনা করার অর্থ হলো ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া, যুদ্ধের দুর্ভোগ স্মরণ করা, যৌথভাবে সামরিকবাদের নতুন রূপের উত্থান প্রতিরোধ করা।
সূত্র: সিএমজি
















