চীনে ভূমিধসের ঘটনায় উদ্ধার ও অনুসন্ধানকর্মীদের মনস্তাত্ত্বিক সেবা প্রদান করা হচ্ছে। জিরং বন্দরে সামনের সারিতে কাজ করা কর্মীদের চীনের গণমুক্তি ফৌজের (পিএলএ) সিচাং মিলিটারি কমান্ডের লজিস্টিক সহায়তায় এ সেবা দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার রাতে টানা বৃষ্টির পর ভোর হতেই সিচার স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের শিংয়াতসের জিরং কাউন্টিতে আরেকটি কর্মদিবস শুরু করেন মনোবিজ্ঞান পরামর্শক হ্য লেই। তিনি ওই লজিস্টিক সহায়তা বিভাগের চিকিৎসা ও রোগ প্রতিরোধ দলের সদস্য। তিনি বলেন, ‘এই কয়েক দিনের কাজের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, আমাদের সেনারা মানসিকভাবে বেশ দৃঢ়। তারা এখানে নিজেদের দায়িত্ব পালনে মনোযোগী। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে সহায়তা করার গুরুত্ব সম্পর্কেও তারা পুরোপুরি সচেতন।‘
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কাদাধসের পর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য পিএলএ এবং পিপলস আর্মড পুলিশ ফোর্সের ৭২৬ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
চিকিৎসা ও রোগ প্রতিরোধ দলের প্রধান লি কুওখাই বলেন, টহল দেওয়ার সময় উদ্ধারকর্মী ও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীদের চিকিৎসা ও মনস্তাত্ত্বিক সেবা দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো জীবাণুমুক্ত এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি পর্যবেক্ষণ করা এই দলের দায়িত্ব।
উদ্ধার কার্যক্রমে নিয়োজিত সামরিক ঘাঁটিগুলোতে প্রতিদিন টহল দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে হ্য মূল দুর্যোগকবলিত এলাকায়ও যান এবং ঘটনাস্থলে সহায়তা দেন।
তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে আমরা কঠিন পরিস্থিতি থেকে পিছিয়ে যেতে পারি না। আমি নিজেও সামনের সারিতে থাকতে চেয়েছি। কোনো সেনার সহায়তা প্রয়োজন কি না তা দেখতে এবং মানসিক চাপ সামাল দেওয়ার জন্য তারা নিজেরাই ব্যবহার করতে পারে এমন কৌশল শেখাতে চাই।‘
সিচাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের স্বাস্থ্য কমিশনের পার্টি প্রধান থান সিয়ানতোং বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জাতীয় ও আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের তিনটি দল সেখানে পাঠিয়েছে। এসব দলে মোট ২১০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।
তান বলেন, সামনের সারির উদ্ধারকর্মীরা মনস্তাত্ত্বিক ঝুঁকি মূল্যায়ন, দলগত ও ব্যক্তিগত পরামর্শসেবা এবং পকেট গাইড ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। এসব গাইডের মাধ্যমে তারা মানসিক চাপজনিত প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে এবং তা মোকাবিলার কার্যকর পদ্ধতি শিখতে পারছেন।
সূত্র: সিএমজি
















