অক্টোবর ২৯: চীনের ছোংছিংয়ের লিয়াংপিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রথম ‘ফ্লাই ওভার চায়না’ নিম্ন-উচ্চতার অর্থনৈতিক প্রয়োগভিত্তিক প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। গত ২৭ অক্টোবর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
‘সহযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তোলা, পশ্চিমাঞ্চলের আকাশে স্বপ্ন ওড়ানো’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় সরকার, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা ও বিভিন্ন প্রয়োগক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। এর লক্ষ্য হলো নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতিতে উদ্ভাবনী সাফল্য খুঁজে বের করা, বাস্তব প্রয়োগের নতুন পথ অনুসন্ধান করা এবং চীনের পশ্চিমাঞ্চলে এ খাতের উচ্চমানের উন্নয়নে সহায়তা করা।
প্রতিযোগিতাটি নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতির পুরো শিল্পশৃঙ্খলকে গুরুত্ব দিয়ে আয়োজন করা হয়েছে। এতে পরিকল্পনা ও বাস্তব প্রয়োগ—এই দুই বিভাগ রাখা হয়েছে। নিম্ন-উচ্চতায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম উৎপাদন, উড্ডয়ন কার্যক্রম পরিচালনা, অবকাঠামো নির্মাণ এবং সমন্বিত পরিষেবা—এই তিনটি মূল ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগ তুলে ধরা হচ্ছে।
লিয়াংপিংয়ে প্রায় ৮ হাজার বর্গকিলোমিটার উপযোগী আকাশসীমা রয়েছে। এ অঞ্চলে বছরে ৩০০ দিনেরও বেশি সময় উড্ডয়নের অনুকূল আবহাওয়া থাকে। এসব প্রাকৃতিক সুবিধা নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতির বিকাশে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লিয়াংপিং ‘পশ্চিমাঞ্চলের নিম্ন-উচ্চতার শহর’ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এ জন্য বিমানবন্দরভিত্তিক অর্থনৈতিক শিল্পপার্ক, নিম্ন-উচ্চতায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম উৎপাদনের কেন্দ্র এবং নিম্ন-উচ্চতার সরবরাহ ও পরিবহনব্যবস্থার সংযোগকেন্দ্র—এই তিন ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘নিম্ন-উচ্চতা + নগর ব্যবস্থাপনা’, ‘নিম্ন-উচ্চতা + সরবরাহব্যবস্থা’, ‘নিম্ন-উচ্চতা + বুদ্ধিমান কৃষি’, ‘নিম্ন-উচ্চতা + জরুরি উদ্ধার’ এবং ‘নিম্ন-উচ্চতা + সংস্কৃতি, পর্যটন, ব্যবসা, ক্রীড়া ও প্রদর্শনী’—এই পাঁচটি প্রয়োগক্ষেত্র সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ছোংছিংয়ের লিয়াংপিং অঞ্চলের পার্টি সম্পাদক চৌ এনহাই বলেন, এ প্রতিযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে অঞ্চলটি সম্ভাবনাময় প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা, প্রয়োজনীয় সহায়তা, ক্লোজড-লুপ সমন্বিত পরিষেবা নিশ্চিত করবে। এর মাধ্যমে উদ্ভাবনী পরিকল্পনাগুলোকে বাস্তব প্রয়োগে রূপ দেওয়া এবং নকশা থেকে বাস্তব উড্ডয়ন পর্যন্ত এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তারা যাতে লিয়াংপিংয়ে নিশ্চিন্তে বিনিয়োগ, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সে পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মূল বক্তব্য পর্বে চীনা প্রকৌশল একাডেমির শিক্ষাবিদ শেন ছাংসিয়াং ‘নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতির উচ্চমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতার শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলা’ শীর্ষক বক্তব্য দেন।
তিনি নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতির জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং এ শিল্পের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের পথ নিয়ে নিজের চিন্তাভাবনা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
(প্রেমা/ফয়সল)
https://www.chinanews.com.cn/cj/2026/10-27/10721955.shtml
ক্যান্টন ফেয়ারে ‘সুপার বিক্রেতা’ হিসেবে বিশ্ববাজারে যেভাবে ইতিবাচক প্রভাব রাখছে চীন
৩১ বছর আগে চীনের আমদানি ও রপ্তানি মেলা, অর্থাৎ ক্যান্টন ফেয়ারে প্রথমবার অংশ নেওয়ার সময় গ্রি ইলেকট্রিক অ্যাপ্লায়েন্সেস মূলত গৃহস্থালিতে ব্যবহারের এয়ার কন্ডিশনার রপ্তানি করত। কিন্তু এবারের ক্যান্টন ফেয়ারে প্রতিষ্ঠানটি শুধু এয়ার কন্ডিশনার নয়, বরং গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, শিল্প সরঞ্জাম, জ্বালানি সঞ্চয়, সৌরবিদ্যুৎ ও শক্তি সঞ্চয়ব্যবস্থা, ভবনের তাপায়ন-বায়ুচলাচল-শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এইচভিএসি) এবং শীতল সরবরাহব্যবস্থাসহ বিভিন্ন খাতের জন্য সমন্বিত নিম্ন-কার্বন জ্বালানি সমাধান তুলে ধরেছে। এর মধ্য দিয়ে চীনের ‘বুদ্ধিদীপ্ত উৎপাদন’-এর রূপান্তর ও আধুনিকায়নের সাফল্য ফুটে উঠেছে। বর্তমানে গ্রি ইলেকট্রিক অ্যাপ্লায়েন্সেসের পণ্য বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে পৌঁছেছে এবং প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬০ কোটি ভোক্তাকে সেবা দিচ্ছে।
এবারের ক্যান্টন ফেয়ারে অংশ নেওয়া প্রায় ৩২ হাজার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গ্রি একটি। মেলার ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চীনের কুয়াংচৌ শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৪০তম ক্যান্টন ফেয়ার।
এবারের প্রথম পর্বে ১ লাখ ৮৯ হাজার বিদেশি ক্রেতা অংশ নিয়েছেন। বৈদেশিক বাণিজ্যের নতুন প্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মেলায় ডিজিটাল ও পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের অর্জনগুলো তুলে ধরা হচ্ছে।
অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের ৬৪ শতাংশ শিল্প ইন্টারনেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। প্রদর্শিত নতুন পণ্য ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের অনুপাত যথাক্রমে ২৩ দশমিক ২ শতাংশ ও ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে। উভয় ক্ষেত্রেই এটি নতুন রেকর্ড।
মেলার প্রথম পর্বে পরিষেবা রোবট, স্মার্ট চিকিৎসাসামগ্রী এবং নতুন জ্বালানিচালিত গাড়ির মতো অত্যাধুনিক পণ্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ধরনের বুদ্ধিমান রোবটের সরাসরি প্রদর্শনীতে চীনের স্মার্ট উৎপাদনশিল্পের উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং দৈনন্দিন জীবনে এসব প্রযুক্তির ব্যবহারিক মূল্য তুলে ধরা হচ্ছে।
কুয়াংচৌ শিইউয়ান ইলেকট্রনিক টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের (সিভিটিই) প্রদর্শনীকেন্দ্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বৃহৎ মডেল সংযুক্ত স্মার্ট টিচিং স্ক্রিন দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। এই প্রযুক্তির সাহায্যে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় বিমূর্ত ও জটিল বিষয়গুলো আরও সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করা যায়। প্রতিষ্ঠানটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পাঠ-প্রস্তুতি ব্যবস্থাটি একজন ‘বুদ্ধিমান শিক্ষণ সহকারীর’ মতো কাজ করে। শিক্ষক শুধু পাঠদানের উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলেই ব্যবস্থাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠপরিকল্পনা, শিক্ষণসামগ্রী এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনা তৈরি করতে পারে। এর ফলে শিক্ষাদানে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সহজ ও কার্যকর হচ্ছে।
চীনের বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিসংখ্যানেও উৎপাদনশিল্পের এই অগ্রগতির প্রতিফলন দেখা যায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে চীনের পণ্যবাণিজ্যের মোট আমদানি-রপ্তানির মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৯ দশমিক ৯৪ ট্রিলিয়ন ইউয়ান, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। এ সময়ে শিল্প রোবট ও ইলেকট্রনিক উপাদানের মতো উচ্চপ্রযুক্তির পণ্যের আমদানি-রপ্তানিতেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
বিশ্ববাজারে চীনের উৎপাদিত পণ্যের প্রভাব শুধু পণ্যের বৈচিত্র্য বা সরবরাহের পরিমাণ বৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এসব পণ্য বিভিন্ন দেশের ভোক্তাদের জন্য আরও বেশি পছন্দের সুযোগ তৈরি করে।
সাত দশক ধরে উন্মুক্ত বাণিজ্যের প্রতি অঙ্গীকার বজায় রেখে ক্যান্টন ফেয়ার দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক অংশীদারদের (বন্ধু-চক্র) নেটওয়ার্ক ক্রমাগত সম্প্রসারণ করেছে। বর্তমানে মেলাটির বৈশ্বিক সহযোগী নেটওয়ার্ক ১১২টি দেশ ও অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত।
এ পর্যন্ত ২৩৮টি বিদেশি শিল্প ও বাণিজ্য সংস্থা, শিল্প সমিতি এবং শীর্ষস্থানীয় ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে ক্যান্টন ফেয়ার বৈশ্বিক উৎপাদন ও বিপণন নেটওয়ার্কের সংযোগ স্থাপন এবং পণ্য ও পরিষেবার চাহিদা-জোগানের মধ্যে সমন্বয় সাধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়েছে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক প্যাসকেল ল্যামি বলেন, গত কয়েক দশকে চীন অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের অন্যতম বড় সুবিধাভোগী হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে উৎপাদন, বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন, পুঁজি বণ্টন এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে নিজস্ব সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে দেশটি বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
(প্রেমা/ফয়সল)
https://www.yidaiyilu.gov.cn/p/074KUAHI.html


















