২০৩৫ সালের মধ্যে শীর্ষ ক্রীড়াবান্ধব রাষ্ট্র গড়ার রূপরেখা প্রকাশ চীনের - Mati News
Wednesday, August 19

২০৩৫ সালের মধ্যে শীর্ষ ক্রীড়াবান্ধব রাষ্ট্র গড়ার রূপরেখা প্রকাশ চীনের

২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়াবান্ধব রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে একটি নতুন রূপরেখা প্রকাশ করেছে চীন। এতে জনসাধারণের শারীরিক সুস্থতা বৃদ্ধি, ক্রীড়া শিল্পের সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শীর্ষ ক্রীড়াবিদ তৈরির লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় পরিষদ অনুমোদিত এ রূপরেখা চীনের ক্রীড়া সাধারণ প্রশাসন প্রকাশ করেছে। এটি পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০) সময়কালকে কেন্দ্র করে প্রণিত হয়েছে।

পরিকল্পনাটি সাধারণ ভূমিকা, মূল কাজ এবং সুরক্ষাব্যবস্থা— এই তিনটি প্রধান স্তম্ভের অধীনে ১১টি বিভাগে বিন্যস্ত। এতে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য কৌশলগত পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় শারীরিক সুস্থতা, শীর্ষ ক্রীড়া, যুব প্রশিক্ষণ, দলীয় খেলাধুলা, ক্রীড়া শিল্প, ক্রীড়া সংস্কৃতি, আন্তর্জাতিক বিনিময়, শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রতিভা উন্নয়ন, ডোপিং-বিরোধী কার্যক্রম, আইন এবং নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

চীনের ক্রীড়া সাধারণ প্রশাসনের নীতি, আইন ও প্রবিধান বিভাগের উপ-পরিচালক ওয়েই চেনইয়ং বলেন, ‘এই পরিকল্পনা তুলনামূলকভাবে উচ্চমানের। প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ের খাতভিত্তিক পরিকল্পনাগুলোতে একটি ক্রীড়া পরিকল্পনায় আনা হয়েছে, যা চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি এবং রাষ্ট্রীয় পরিষদ ক্রীড়া কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেয়। এটি সম্পূর্ণরূপে চীনকে সর্বক্ষেত্রে এক মহান আধুনিক সমাজতান্ত্রিক দেশ হিসেবে গড়ে তোলার সামগ্রিক প্রচেষ্টা প্রদর্শন করে। সেইসঙ্গে অগ্রণী ক্রীড়াজাতি গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও প্রতিফলিত করে।‘

রূপরেখায় পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা সময়কালে ক্রীড়া উন্নয়নে পাঁচটি প্রধান সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে মাথাপিছু ক্রীড়াঙ্গনের পরিমাণ প্রায় চার বর্গমিটারে উন্নীত করা, নিয়মিত ব্যায়ামকারী মানুষের অনুপাত প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছানো এবং শারীরিক সক্ষমতাসম্পন্ন জনসংখ্যার হার ৩১ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

পরিকল্পনায় আরও বলা হয়েছে, বিশ্বশিরোপা জয়ের সংখ্যার বিচারে চীনকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর মধ্যে রাখতে হবে। একই সঙ্গে ক্রীড়াশিল্পের মোট মূল্য সাত ট্রিলিয়ন ইউয়ানেরও বেশি উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া সরকারি ক্রীড়াঙ্গন ও স্থাপনা নির্মাণ, প্রতিযোগিতার বিন্যাসে উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আধুনিকায়ন, প্রধান ক্রীড়ায় সম্ভাবনাময় প্রতিভা গড়ে তোলা, বহিরাঙ্গন ক্রীড়াশিল্পের আধুনিকায়ন, ক্রীড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উদ্ভাবন, পেশাজীবীদের উন্নয়ন এবং ডোপিং-বিরোধী কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে আটটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সূত্র: সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *