কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনার পরিপন্থি কোনো আইন সংবিধানে টিকে থাকার সুযোগ নেই। শরিয়াহবিরোধী যেকোনো আইন বাতিল বা সংশোধনযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক। বুধবার সকালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হেফাজতে ইসলামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘শানে রেসালত সম্মেলন’-এ তিনি এসব কথা বলেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও ইসলামি শরিয়াহর গুরুত্ব নিয়ে আয়োজিত এই সম্মেলনে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ও আলেম-ওলামা অংশ নেন।
মাওলানা আব্দুল মালেক তার বক্তব্যে বলেন, আইন প্রণেতারা পশ্চিমা বিশ্বের আদলে আইন তৈরি করতে পারেন, তবে দেশীয় কোনো আইনকে ইসলামি শরিয়াহর সমতুল্য মনে করার অবকাশ নেই। যদি ভুলবশত সংবিধানে এমন কোনো বিধান অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে যা কোরআন-সুন্নাহর মৌলিক আকিদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক, তবে তা পরিবর্তনের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যরা সংবিধান রক্ষার শপথ নেন, তাই সংবিধানে ইসলামি মূল্যবোধের পরিপন্থি কোনো ধারা থাকলে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া তাদের নৈতিক দায়িত্ব।
কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের বিষয়ে খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক বলেন, তারা নিজেদের মুসলমান দাবি করে নামাজ ও জাকাত আদায়ের কথা বললেও মূলধারার ইসলামি আকিদার সঙ্গে তাদের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। পৃথিবীতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ নিজ নিজ পরিচয়ে চললেও কাদিয়ানিদের নিয়ে মুসলিম সমাজে দীর্ঘদিনের আকিদাগত বিতর্ক বিদ্যমান। তিনি তাদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তারা প্রতারক ও দাজ্জাল হিসেবে পরিচিত।
হেফাজতে ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শাব্বির আহমাদ রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বক্তারা মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ এবং ইসলামি মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই কটিয়াদী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন এবং ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।




















