সি চিন পিংয়ের সভাপতিত্বে সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সভা অনুষ্ঠিত - Mati News
Friday, July 31

সি চিন পিংয়ের সভাপতিত্বে সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সভা অনুষ্ঠিত

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল (বৃহস্পতিবার)। সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় চলতি বছরের অক্টোবরে বেইজিংয়ে সিপিসির ২০তম কেন্দ্রীয় কমিটির পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভার প্রধান আলোচ্যসূচির মধ্যে ছিল রাজনৈতিক ব্যুরোর পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে কাজের প্রতিবেদন পেশ, পার্টির সর্বাত্মক ও কঠোর শাসন আরও এগিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যালোচনা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং বছরের দ্বিতীয়ার্ধের অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ।

সভায় বলা হয়, সিপিসির ১৮তম জাতীয় কংগ্রেসের পর থেকে পার্টির সর্বাত্মক ও কঠোর শাসনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে, যা শতবর্ষী দলটির আত্মবিপ্লবে উন্মোচন করেছে নতুন দিগন্ত। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, জাতীয় বাস্তবতা এবং পার্টির অভ্যন্তরীণ পরিবেশে গভীর পরিবর্তনের ফলে পার্টি শাসনের ক্ষেত্রেও নতুন চ্যালেঞ্জ ও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এ কারণে শাসক দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করার কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশকে সংহত ও বিকশিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় সভায়।

সভায় আরও বলা হয়, পার্টির সর্বাত্মক ও কঠোর শাসন অব্যাহতভাবে এগিয়ে নিতে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ, মাও সেতুং চিন্তাধারা, তেং সিয়াও পিং তত্ত্ব, ‘ত্রিপ্রতিমা’র গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাধারা এবং উন্নয়নের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন যুগে চীনা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সমাজতন্ত্র বিষয়ে সি চিন পিংয়ের চিন্তাধারা এবং পার্টি গঠনবিষয়ক তার গুরুত্বপূর্ণ ভাবনাগুলো গভীরভাবে অধ্যয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। নতুন যুগে পার্টি গঠনের সাধারণ নীতিমালা অনুসরণ করে আত্মশুদ্ধি, আত্মোন্নয়ন, আত্মউদ্ভাবন ও আত্মবিপ্লবের সক্ষমতা ক্রমাগত জোরদার করার আহ্বানও জানানো হয় সভায়।

সভায় আরও বলা হয়, পার্টিকে এমন একটি প্রাণবন্ত মার্কসবাদী শাসক দলে পরিণত করতে হবে, যা যুগের অগ্রভাগে থাকবে, জনগণের আন্তরিক সমর্থন পাবে, সব ধরনের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে এবং চীনা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সমাজতন্ত্রের শক্তিশালী নেতৃত্বের কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা পালন করবে।

সভায় উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের শুরু থেকে সি চিন পিংকে কেন্দ্র করে সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটি সমগ্র পার্টি এবং দেশের সব জাতিগোষ্ঠীর জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে। উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সমন্বয়ের নীতি অনুসরণ করে বিভিন্ন বাহ্যিক ধাক্কা ও অভ্যন্তরীণ প্রতিকূলতা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে। এর ফলে চীনের অর্থনীতিতে দেখা গেছে নতুন প্রবৃদ্ধি ও উন্নত কাঠামোভিত্তিক উন্নয়নের ধারা।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জকে গুরুত্ব দিয়ে আত্মবিশ্বাস জোরদার করা, সুযোগ-সুবিধার সদ্ব্যবহার এবং উচ্চমানের উন্নয়নকে স্থিতিশীল ও টেকসইভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয় সভায়।

সভায় জোর দিয়ে বলা হয়, বছরের দ্বিতীয়ার্ধের অর্থনৈতিক কাজ সফলভাবে এগিয়ে নিতে নতুন যুগে চীনা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সমাজতন্ত্র বিষয়ে সি চিন পিংয়ের চিন্তাধারাকে নির্দেশনা হিসেবে অনুসরণ করতে হবে। অগ্রগতির নীতি অনুসরণ, নতুন উন্নয়ন দর্শন বাস্তবায়ন ও নতুন উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তোলা, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয়, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার ভারসাম্য রক্ষা এবং সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ আরও গভীর করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

পুরনো ও নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তির রূপান্তর ত্বরান্বিত করা, আরও সক্রিয় রাজস্বনীতি ও পরিমিত শিথিল মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন, বিদ্যমান নীতির কার্যকারিতা সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানো এবং পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি শক্তিশালী সূচনা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয় সভায়।

সূত্র: সিএমজি বাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *