কারিগরি ত্রুটিতে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ, দেশজুড়ে বেড়েছে লোডশেডিং - Mati News
Friday, September 11

কারিগরি ত্রুটিতে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ, দেশজুড়ে বেড়েছে লোডশেডিং

ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থিত আদানির ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে এই সমস্যা দেখা দেয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, বয়লারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এটি শীতল হতে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এরপর মেরামতের কাজ শুরু হবে, যার ফলে উৎপাদন স্বাভাবিক হতে কয়েক দিন সময় লেগে যেতে পারে। ২০১৭ সালে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিচালিত হচ্ছে।

এর আগে কয়লা স্বল্পতার কারণে প্রায় এক মাস ধরে কেন্দ্রটিতে সীমিত উৎপাদন চলছিল। ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়। তবে গত মাসের শেষ দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে উৎপাদন বাড়ানো হয়। বৃহস্পতিবার রাতে উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেলেও ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার পর তা ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে। চাহিদা অনুযায়ী দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হচ্ছে না।

বিদ্যুৎ খাতের সামগ্রিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে, যার ফলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট কমে গেছে। একই সঙ্গে কয়লার অভাবে পায়রা ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোও পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না। দেশে মোট ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও জ্বালানি সংকট ও কারিগরি ত্রুটির কারণে নিয়মিত অনেকগুলো কেন্দ্র বন্ধ থাকছে বা সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।

জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভর করেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার ছুটির দিনেও সকাল থেকে সারা দেশে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়, যার প্রভাব বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতেও পড়েছে। পিডিবির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৭ সালে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সংকটমুক্তির আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত মাসের শেষ দিকে উৎপাদন বাড়িয়ে দিনের বেলায় ৯০০ মেগাওয়াট করে তারা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আর সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত তারা সরবরাহ করছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৬২ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত, বেড়েছে লোডশেডিং। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট আছে এখানে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, বয়লারে সমস্যা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৭ সালে কিছুটা স্বস্তি, ২৮ সালে আরও স্বস্তি, ৩০ সালে সংকটমুক্তি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পটুয়াখালীর আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লার স্বল্পতা আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *