ফয়সল আবদুল্লাহ
সম্প্রতি চীনের শাংহাইয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত এক রোগীর শরীরে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে মস্তিষ্ক-কম্পিউটার ইন্টারফেস বা বিসিআই ইমপ্ল্যান্ট। বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিকভাবে অনুমোদিত বিসিআই ইমপ্ল্যান্ট এটি। গবেষণাগার থেকে বাস্তব চিকিৎসাক্ষেত্রে এ প্রযুক্তির ব্যবহারে এ ঘটনাকে এক বড় অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে।
শাংহাইয়ের ফুতান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হুয়াশান হাসপাতালে সোমবার অস্ত্রোপচারটি করা হয়। চিকিৎসকরা রোগীর মস্তিষ্কের বাইরের আবরণে এনইও নামের মুদ্রাকৃতির একটি যন্ত্র স্থাপন করেন। অস্ত্রোপচারের সময় যন্ত্রটি মস্তিষ্কের সংকেত বেশ ভালোভাবেই গ্রহণ করতে পেরেছে।
দশ বছর আগে গাড়ি দুর্ঘটনায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন ওই রোগী। এরপর তিনি হাত দিয়ে কোনো কিছু ধরার ক্ষমতা হারান। প্রচলিত পুনর্বাসন ও ওষুধে তার উন্নতিহচ্ছিল না দেখেই গবেষকরা বিসিআই প্রযুক্তির সহায়তা নেন।
শাংহাইভিত্তিক নিউরাকল টেকনোলজি উদ্ভাবিত এনইও নামের যন্ত্রটি ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ুকে পাশ কাটিয়ে কাজ করে। রোগী হাত নড়ানোর কথা ভাবলে মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক সংকেত যন্ত্রটি শনাক্ত করে। পরে সেই সংকেত বিশ্লেষণ করে রোগীর পরা একটি রোবোটিক গ্লাভে নির্দেশনা পাঠানো হয়। এর ফলে রোগী চিন্তা করে তার হাত নাড়াতে পেরেছেন।
এনইও মস্তিষ্কের পৃষ্ঠেই স্থাপন করা হয়। এতে মস্তিষ্কের গভীরে সূচজাতীয় কিছু প্রবেশ করাতে হয় না। বাজারে অনুমোদনের আগে চীনের ১১টি শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে ৩২ জন রোগীর ওপর প্রযুক্তিটির পরীক্ষা চালানো হয়।
চীনা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পর গত ১৩ মার্চ এনইও বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিকভাবে অনুমোদিত সর্বোচ্চ ঝুঁকির শ্রেণির বিসিআই ইমপ্ল্যান্ট হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
চীনে প্রযুক্তিটি এখন উৎপাদন, হাসপাতালভিত্তিক ব্যবহার, রোগী নির্বাচন এবং স্বাস্থ্যবিমা কাভারেজের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
সূত্র: সিএমজি





















